আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে একেবারে বিহার মডেলে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এবারের ভোট হবে বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন। সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে একাধিক কড়া পদক্ষেপ।
সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত, গোটা নির্বাচন হবে ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে। অর্থাৎ প্রতিটি ভোটকেন্দ্র লাইভ নজরদারিতে থাকবে। এই নজরদারি হবে তিন স্তরে —
১. ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার
২. চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার
৩. ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া
৮০ হাজার বুথে নজরদারি, বসছে ২ লক্ষ সিসিটিভি:
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজার ৭০০ ভোটকেন্দ্রে বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়েব কাস্টিংয়ের জন্য। প্রত্যেক বুথে থাকবে, একটি ভিতরে, একটি বাইরে। অর্থাৎ প্রত্যেক বুথে অন্তত দু'টি করে ক্যামেরা। যেসব বুথ বড় আয়তনের, সেখানে বসানো হবে ৩৬০ ডিগ্রি এআই ক্যামেরা। সব মিলিয়ে নির্বাচনে ব্যবহৃত হবে প্রায় ২ লক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা।
জেলায় জেলায় স্পেশাল কন্ট্রোল রুম:
প্রত্যেক জেলায় তৈরি হচ্ছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম।
সেখানে থাকবে —
দু'জন করে মাইক্রো অবজারভার
মোট ২৩৫২ জন মাইক্রো অবজারভার
প্রায় ৬৬০টি মনিটরিং স্ক্রিন
এই কন্ট্রোল রুম থেকেই সারাক্ষণ নজর রাখা হবে ভোট পরিস্থিতির ওপর।
এআই ক্যামেরা ধরবে গোলমাল, সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছবে বাহিনী:
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার ব্যবহার করা হবে এআই প্রযুক্তি। যদি দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রে একসঙ্গে চারজনের বেশি প্রবেশ করছে, ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, বুথ দখলের চেষ্টা হচ্ছে, তাহলেই এআই ক্যামেরা পপ-আপ অ্যালার্ট দেবে। সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো হবে সিকিউরিটি ফোর্স।
গোলমাল হলেই রিপোলিং:
কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনও বুথে যদি ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ভোট ব্যাহত হয়, তাহলে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণ (রি-পোলিং) করা হবে। এমনকী, ভোটারদের রাস্তা আটকানো হলে, গ্রামে ঢুকতে বাধা দিলে, ছাপ্পা বা রিগিং হলে, সেই বুথেও পুনরায় ভোট ঘোষণা হতে পারে।
কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি:
নির্বাচন কমিশন ইলেক্টোরাল অফিসারদের জন্যও এনেছে কড়া নিয়ম। দায়িত্বে গাফিলতি করলে, ছ'মাস জেল ও জরিমানা। সরকারি কর্মীরা রিগিংয়ে জড়ালে, তিন থেকে পাঁচ বছর জেল ও জরিমানা।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট বলেন, "এবারের ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মতোই সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে।" অর্থাৎ কোথাও অনিয়ম হলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও রিপোলিং হবে তা খুব স্পষ্ট।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবার ভূতুড়ে ভোট, ছাপ্পা বা বুথ দখল, এই ধরনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুনরায় ভোটের ঘোষণা হতে পারে। সব মিলিয়ে, এআই নজরদারি, লাইভ মনিটরিং ও কঠোর নিরাপত্তা, এবার বাংলার ভোট হতে চলেছে নজিরবিহীন কড়াকড়ির মধ্যে।