• ভোটার তালিকায় নাম নেই, আতঙ্কে আত্মঘাতী যুবক
    আজকাল | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকায় নাম নেই। অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দাগিয়ে দিয়েই বাংলার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে! এই আতঙ্কেই বাংলায় ফের মৃত্যু। আতঙ্কে আত্মঘাতী হলেন ৩৫ বছরের এক যুবক। 

    জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম খেপা হাজরা। তিনি পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বাসিন্দা ছিলেন।‌ পরিবারের তরফে জানা গেছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না তাঁর। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন তালিকায় তাঁর নাম ছিল। শুনানিতেও হাজিরা দিয়েছিলেন। তার পরেও সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। 

    পরিবারের তরফে আরও জানা গেছে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। শনিবার থেকেই নিখোঁজ। বহু খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁর দেখা পাওয়া যায়নি। কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর মাঠের পাশ থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তড়িঘড়ি দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। 

    চিকিৎসকরা জানান, বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। টানা দু'দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর, সোমবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। জানা গেছে, যুবক দিনমজুরের কাজ করতেন। এই ঘটনার পরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার। কমিশন যে ভয়ের, আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি করেছে, তার জেরেই একের পর এক মৃত্যু হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। 

    প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন। 

    বীরভূমের ইলামবাজারে ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল। পানিহাটির প্রদীপ করের পর প্রাণ হারান পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীশ। বেশ কয়েক মাস আগে বীরভূমে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের জয়পুর এলাকার যুবক সফিকুল গাজি (৩৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁরা স্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বারবার বলছিলেন, তাঁর কোনও পরিচয়পত্র নেই। ভাই-বাপ কেউ নেই। স্ত্রী বারবার অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও গত বুধবার সকালে তিনি নিজেকে শেষ করে দেন। 

    এই আবহে বহরমপুর থানার অন্তর্গত গান্ধী কলোনী এলাকায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এক ব্যবসায়ী। সেক্ষেত্রেও পরিবাররে দাবি ছিল, আত্মহত্যার কারণ এসআইআর আতঙ্ক। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আতঙ্কে গত ৪ নভেম্বর কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন মুর্শিদাবাদের কান্দির মোহন শেখ (৫৫)।
  • Link to this news (আজকাল)