নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বদলের পাশাপাশি এবার ওসি, বিডিওদেরও বদলি করেছে কমিশন। রবিবার সন্ধেয় একলপ্তে রাজ্যের ১৭৩টি থানার ওসি এবং আইসি বদলির নির্দেশ জারি করে কমিশন। সব মিলিয়ে ১৮৪ জন পুলিশ আধিকারিককে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার দুপুরেই ১৮ জেলার ৮৩ জন BDO বদলের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওসি থেকে বিডিও, একইদিনে রাজ্যের ২৬৭ জন আধিকারিক বদলি করে কমিশন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করতে এবার আদালতে দায়ের হলো মামলা। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলা দায়ের করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ।
কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সোমবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তিনি। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বদল নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও দেন। রাজ্যে একের পর এক শীর্ষ আধিকারিকের অপসারণের বিরোধিতা করে আগেই হাইকোর্টে মামলা করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশন যে ভাবে আধিকারিকদের বদলি করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বদলির ধরন দেখে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ আদালতে জানান, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে এ ভাবে বদলি করা যায়। সে ক্ষেত্রে রাজ্যে এমন কিছু জারি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অন্য দিকে কী কারণে বদলি করা হচ্ছে, তা নিয়ে কমিশনও নিজেদের বক্তব্য জানায় আদালতে। এ বার রাজ্যের একঝাঁক বিডিও এবং ওসি অপসারণের বিরোধিতা করে ফের হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে, আজ, সোমবার রাজ্যের প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা আসনের ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। তার আগেই ২৯ মার্চ রাজ্য জুড়ে বদলি করা হয় পুলিশ আধিকারিকদের।