২৬-এ বিষ্ণুপুরে নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়াল মল্ল রাজাদের হাতে তৈরি লালবাঁধ, যমুনাবাঁধ, কালিন্দী বাঁধ, শ্যাম বাঁধ, কৃষ্ণবাঁধ, পোকাবাঁধ ও গাঁটাতবাঁধ। বহিঃশত্রুর হাত থেকে বাঁচার পাশাপাশি জল সঙ্কট মেটাতে ১৬৫৮ সাল নাগাদ মল্লরাজাদের খনন করা এই জলাশয়গুলি বর্তমানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের বিষয় ও শহরের ‘প্রাণ ভোমরা’ বলেই ওই এলাকার মানুষ জানিয়েছেন। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তথৈবচ অবস্থা এই জায়গাগুলির। সেই ঐতিহ্যময় জায়গাগুলি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সরব বাসিন্দাদের একাংশ।
মল্ল রাজধানী বিষ্ণুপুরকে সুরক্ষিত রাখতে রাজবাড়িকে ঘিরে পরিখা গড়েছিলেন মল্লরাজারা। শত্রুপক্ষ আক্রমণ করলে শহরের সাতটি বাঁধের জল ছেড়ে দেওয়া হতো সেই পরিখায়। গোলাবারুদ নিয়ে এগোতে পারত না শত্রুপক্ষের সেনারা। বর্গী আক্রমণের সময়ে সাফল্যও এসেছিল এই পদ্ধতিতে। কিন্তু বহুকাল হলো সেই পরিখা বুজিয়ে বসতবাড়ি গজিয়ে উঠেছে এই প্রাচীন শহরে। আর যে সাতটি বাঁধের জল শুধু সুরক্ষার কাজেই লাগত তা নয়, তীব্র খরায় জল সমস্যার মোকাবিলা করত শহরবাসীর। সেই বাঁধগুলিও প্রশাসনিক উদাসীনতায় মজে যাচ্ছে ক্রমশ।
শহরবাসীরা জানান, বিষ্ণুপুরের সাতটি বাঁধ শহরের প্রাণ ভোমরা। মল্লরাজাদের তৈরি এই বাঁধগুলি সংস্কার জরুরি। এই বাঁধের নালাগুলি মজে গিয়েছে। যিনিই বিধায়ক হোন না কেন তাঁরই এই বাঁধগুলির দিকে নজর দেওয়া উচিত বলে তিনি জানান। ভোট চাইতে আসা প্রার্থীদের কাছেও অনেকেই এই অনুরোধ জানিয়েছেন।
তবে বিষ্ণুপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ বলেন, ‘লালবাঁধের ইতিমধ্যে সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন হয়েছে। এ ছাড়াও অতি দ্রুত সরকারি উদ্যোগে যমুনা বাঁধ ও কৃষ্ণবাঁধেও ওই কাজ হবে। তবে বাকি বাঁধগুলি ব্যক্তি মালিকানাধীন।’ তাঁদের ছাড়পত্র না পেলে কাজ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
অন্য দিকে, বিজেপি প্রার্থী শুক্লা চট্টোপাধ্যায়ের কথায়,‘কোথায় বাঁধ! তৃণমূলের দৌরাত্ম্যরাজ চলছে। ভরাট করে প্লট করে বিক্রি পর্যন্ত করা হচ্ছে।’ মানুষ তাঁকে সুযোগ দিলে ওই বাঁধগুলি সৌন্দর্যায়নে চেষ্টা করবেন বলে দাবি করেন বিজেপি প্রার্থী।