‘ধামাচাপা দেওয়া যাবে না’, রাহুলের মৃত্যুতে তদন্তের দাবি সুদীপ্তা-রূপাঞ্জনার
প্রতিদিন | ৩০ মার্চ ২০২৬
চোখের পলকে যেন সব শেষ। কয়েক ঘণ্টা আগে শুটিং করছিলেন রাহুল, সেই অভিনেতাই আজ নেই। তালসারিতে ‘অরুণাস্ত’। রাহুলের সলিল সমাধি। শুটিং স্পষ্টেই অভিনেতার মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও রূপাঞ্জনা মিত্র।
রূপাঞ্জনা মিত্র ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে রাহুলের মৃত্যুতে গর্জে ওঠেন। তাঁর দাবি, “কোনও নিরাপত্তা ছাড়া শুটিং হচ্ছে, এর দায় নিতেই দাবি ইন্ডাস্ট্রিকে। আর ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। শিল্পীদের জন্য বাংলা ফিল্ম সোকল্ড ইন্ডাস্ট্রি নিরাপদ নয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রচুর শিল্পী প্রচুর কাজ করেছে এই ট্রেডে। অরুণোদয় প্রচুর প্রফেশনাল শিল্পী। শুটিং চলছিল তখন ঈশ্বর এদের ছেড়ো না।”
ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য সুদীপ্তা। রবিবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় তদন্তের দাবি জানিয়ে একটি পোস্টও করেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, “শুটিং স্পটে অস্বাভাবিক মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্ত দাবি করছি।”
রবিবার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন ৪৩ বছরের অভিনেতা। তালসারিতে জলে নামেন তিনি। সেই সময় জোয়ার চলে আসে। তখনই তলিয়ে যান বলে খবর। টেকনিশিয়ানরা উদ্ধার করেন। জলে ডুবে মৃত্যু বলেই প্রাথমিক খবর। দিঘা হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। হাসপাতালে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। সকাল ১০টায় তমলুক হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর সোমবারই তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। দিঘা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে রাহুলের অভিনীত চরিত্রটি দর্শকও দারুণ উপভোগ করছিল। এর মাঝেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় থমকে গিয়েছে টলিপাড়া। সাহিত্য ও সিনেমা জগতের ক্ষেত্রে এটি অপূরণীয় ক্ষতি, সে কথা বলার অবকাশই রাখছে না।
বড়পর্দা, ছোটপর্দা ও থিয়েটারে অবাধ বিচরণ ছিল বছর তেতাল্লিশের রাহুলের। ২০০০ সালে ‘চাকা’ দিয়ে শুরু বাংলার ছবির পথচলা। তারপর জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যান ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবি দিয়ে। ২০০৮ ‘আবার আসব ফিরে’ ও ‘জ্যাকপট’-এ নজর কাড়ে তাঁর অভিনয়। ‘জুলফিকার’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। যিনি লেখেন, তিনি অভিনয়ও করেন। ‘বিদায় ব্যোমকেশ’ ও ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ ছবিতে তাঁর সেই দুই সত্বাই যেন মিলেমিশে গিয়েছিল। অভিনয় জগতের বাইরেও তাঁর খ্যাতি ঈর্ষণীয়। সাহিত্যচর্চা থেকে রাজনীতির বাকবিতণ্ডা, সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন ফ্রন্টফুটে। সর্বোপরি রাহুল ছিলেন একজন দুর্দান্ত বাবা। ছেলে সহজের কথা ভেবেই দূরত্ব ভুলে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গেই আবারও একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ছেলের নামেই শুরু করেন নিজের পডকাস্ট চ্যানেল ‘সহজ কথা’। রাহুলকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তাঁর সহকর্মী, আপনজনেরা।