রাহুল-পীযূষ-রনি, লীনা গাঙ্গুলির ধারাবাহিকের মাঝপথে মৃত্যু হয়েছিল অভিনেতাদের! সবটাই কাকতালীয়?
আজকাল | ৩০ মার্চ ২০২৬
স্টার জলসার ধারাবাহিক 'ভোলেবাবা পার কারেগা'র শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির। তালসারিতে শুটিং করছিলেন তিনি। সেই সময় সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। জলে দু'জনেই পড়ে যান, কিন্তু নায়িকাকে উদ্ধার করা গেলেও না ফেরার দেশে চলে গেলেন রাহুল। এই ঘটনা জানার পর থেকেই শোকে আচ্ছন্ন গোটা টলিউড ইন্ডাস্ট্রি, তেমনই রাহুলের অনুরাগীরা। কিন্তু এর মাঝেই সমাজমাধ্যমে নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন শুটিংয়ের যথেষ্ট নিরাপত্তা নিয়ে। ইউনিটের লোক থাকতেও কীভাবে এই অঘটন ঘটল? জানতে আজকাল ডট ইন-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল লীনা গাঙ্গুলি ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে, কিন্তু দু'জনেই ফোনে অধরা।
রাহুলের অকাল মৃত্যুর পর একদিকে যেমন সমাজমাধ্যমে শোকের ছায়া, ঠিক তেমনই নেটিজেনরা কাকতালীয়ভাবে আরও দুটো মৃত্যুর সঙ্গে মিল খুঁজছেন। লীনা গাঙ্গুলির প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের একসময়ের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ছিল 'জল নূপুর'। ওই ধারাবাহিক চলাকালীন স্নান করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রনি চক্রবর্তীর। অন্যদিকে, ধারাবাহিক চলাকালীন গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান অভিনেতা পীযূষ গাঙ্গুলি। যদিও এই দুটো মৃত্যুর সঙ্গে শুটিংয়ের কোনও যোগসূত্র নেই। তবুও ক্ষিপ্ত, শোকাচ্ছন্ন নেটিজেন ও রাহুলের অনুরাগীরা 'অভিশপ্ত' বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন লীনার প্রযোজনা সংস্থাকে।
প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। তালসারিতে ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে কীভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি, সেই নিয়ে উঠেছে তদন্তের দাবি। এবার সামনে এল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তালসারি মেরিন পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, শুটিংয়ের জন্য নেওয়া হয়নি কোনও পুলিশি অনুমতি, এমনকী থানাকেও জানানো হয়নি! সোমবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে রাহুলের। বেশি পরিমাণে বালি ঢুকে যাওয়ার অভিনেতার ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় জলের তলায় ছিলেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণ জল এবং বালির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ যে সময় তিনি ডুবে গিয়েছিলেন প্রচুর পরিমাণ জল এবং বালি তাঁর ফুসফুসে চলে যায়। এর ফলেই ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়। খাদ্যনালী এবং শাস নালীর মধ্যেও বালি এবং জলের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। রিপোর্টে আরও জানা যাচ্ছে যে অল্প সময় জলে ডুবে থাকলে এমন হয় না। বেশ কিছুক্ষণ জলে থাকলে এমনটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তমলুক থেকে সোমবার কলকাতায় পল্লীশ্রীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয় অভিনেতার মৃতদেহ। তাঁকে শেষ দেখা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন টলিউডের বহু তারকা, বামফ্রন্টের বহু কর্মী ও অনুরাগীরা। এদিন ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় রাহুলের।