• ‘ঠাকুমার ঝুলি’র নতুন সিজনে রাহুল অভিনীত চরিত্রটির ভবিষ্যৎ কী? মুখ খুললেন পরিচালক
    আজকাল | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ওড়িশা–পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তালসারি মেরিন পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, শুটিংয়ের জন্য নেওয়া হয়নি কোনও পুলিশি অনুমতি, এমনকী থানাকেও জানানো হয়নি! ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করে গা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে অভিনেতার। জানা গিয়েছে, ২৭ মার্চ থেকেই ওই সৈকতে শুটিং চলছিল।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘ভোলে বাবা পার করে গা’ ধারাবাহিকের প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চিত্রনাট্যে গভীর জলে নামার কোনো দৃশ্যই ছিল না। দুর্ঘটনার সময় তিনি নিজে সেটে উপস্থিত ছিলেন না, তাই ঠিক কী ঘটেছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। । উল্লেখ্য, লীনার প্রযোজিত অনেক ধারাবাহিকেই আগে দেখা গিয়েছে রাহুলকে। আজকাল ডট ইন-এর তরফে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

    এহেন আবহে রবিবার সন্ধ্যা থেকেই তোলপাড় নেটমহল। শোকাচ্ছন্ন টলিপাড়া। কিছুদিন আগেই অয়ন চক্রবর্তীর পরিচালনায় হইচই প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছিল 'ঠাকুমার ঝুলি'। এই ওয়েব সিরিজে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, দিব্যানী মণ্ডল ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছিল রাহুল-কে।

    রাহুলের মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন দাবি ঘুরলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সমুদ্র থেকে উদ্ধার করার পর অভিনেতাকে দ্রুত দিঘা সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যা তালসারি থেকে প্রায় ১০–১২ কিলোমিটার দূরে। এরপর সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ১০ নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সিরিজে পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল জনতামহলে। সিরিজের পরিচালক অয়ন চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আজকাল ডট ইন।

    ফোনের অন্য প্রান্তে বেশ কিছুক্ষণের নিঃস্তব্ধতা। এরপর স্ম্রিয়মাণ কণ্ঠে অয়ন বলে উঠলেন, “জানি না কী বলব। কী-ই বা বলার থাকতে পারে! ‘ঠাকুমার ঝুলি’-তে রাহুলের চরিত্রটিকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছিল দর্শক। রাহুল নিজেও খুব খুশি হয়েছিল কাজটা করে। এই তো সম্প্রতি রাহুলের সঙ্গে বসেছিলাম – ‘ঠাকুমার ঝুলি’র আগামী সিজনটা নিয়ে প্ল্যানিং করতে। ওর সঙ্গে আলোচনা করতে। তারপরেই হঠাৎ এই ব্যাপার! তবে ওই সিরিজে রাহুলের জায়গায় অন্য কোনও অভিনেতাকে ভাবছি না, ভাববো না। রাহুলের বিকল্প কাউকে পাওয়া সম্ভব নয়!”

    প্রসঙ্গত, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনার পুরোটাই ঘটে রাহুলের ড্রাইভার বাবলুর চোখের সামনে। এখনও মেনে নিতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে রাহুলের সারথী তিনি। আজকাল ডট ইন-কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, “শুটিংয়ের সময় নায়িকার হাত ধরে জলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিন ছিল। দাদা তাই-ই করছিলেন। হঠাৎই জলের তোড়ে তলিয়ে যেতে থাকেন। টেকনিশিয়ানরা সবাই ছুটে যায় উদ্ধার করার জন্য। নায়িকাও পড়ে যান। দু'জনকেই উদ্ধার করা হয়। তখনও শরীরে প্রাণ ছিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেছিলেন দাদা। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তার বলেন রাস্তাতেই নাকি সব শেষ হয়ে গিয়েছে।”রবিবার রাতে এ খবর পাওয়া মাত্রই শুটিং ছেড়ে দক্ষিণ কলকাতায় নিজেদের বাড়িতে পৌঁছন প্রিয়াঙ্কা সরকার। এরপর ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান। প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, “এই সময়টা আমাদের কাছে চরম শোক এবং গভীর হতাশার। দয়া করে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। একটি শিশু (সহজ), একজন মা এবং গোটা পরিবার এই অপূরণীয় ক্ষতি সামলানোর চেষ্টা করছে।” সংবাদমাধ্যমের কাছেও এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
  • Link to this news (আজকাল)