• ‘কালই ভারতে নকশালবাদের শেষ দিন!’ হুঙ্কার অমিত শাহের, কী বললেন বিরোধীরা?
    এই সময় | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ‘৩১ মার্চ, ২০২৬-এ ইতিহাস হয়ে যাবে নকশালবাদ।’ সোমবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে হুঙ্কার ছাড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে তিনি নিজেই সেট করে দিয়েছিলেন টাইমলাইন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার একদিন আগেই লোকসভায় মোদী সরকারের ‘নকশাল-মুক্ত ভারত’ অভিযানের খতিয়ান তুলে ধরলেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তাঁর এ দিনের বক্তব্যে সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তবে বিরোধীরা এই বিষয়ে এক তরফা দাবি নয়, বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানিয়েছেন।

    বক্তৃতার শুরুতেই নকশালবাদের মূল কারণ নিয়ে বিরোধীদের দাবিকে নস্যাৎ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর পাল্টা দাবি, দারিদ্র্য বা উন্নয়নের অভাবের ফল নয় নকশালবাদ। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল বামপন্থী আদর্শ। তিনি বলেন, ‘নকশালবাদের মূল কারণ দারিদ্র্য নয়, এটি একটি আদর্শ যা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।’

    স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগত সিং এবং বিরসা মুণ্ডার সঙ্গে নকশালদের তুলনা করার জন্য তিনি কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদের। কংগ্রেস জমানার কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, ২০০৬ সালে তৎকালীন সরকার মাওবাদীদের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ বিপদ বললেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি।

    অমিত শাহ জানান, নকশাল দমনে মোদী সরকার ‘সংলাপ, নিরাপত্তা এবং সমন্বয় ও উন্নয়ন’ — এই তিন কৌশল নিয়েছে। তিনি জানান, যারা অস্ত্র ছেড়ে মূলধারায় ফিরতে চায়, তাদের ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মাওবাদী অধ্যুষিত জেলাগুলিতে নিরাপত্তার কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সেই এলাকায় উন্নয়নের কী কাজ হচ্ছে, তারও ফিরিস্তি দেন তিনি।

    অমিত শাহ দাবি করেন, ২০১৪ সালে নকশাল অধ্যুষিত জেলার সংখ্যা ছিল ১২৬টি। আজ তা কমে ৮-১২টিতে দাঁড়িয়েছে। বক্তৃতার শেষে অমিত শাহ ভারতকে নকশালমুক্ত বলে ঘোষণা করেন। ছত্তিশগড়ের বস্তর এখন ভয় নয়, আশার প্রতীক বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘৩১ মার্চ, ২০২৬-এ নকশালবাদ ইতিহাস হয়ে যাবে।'

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতার আগেই অবশ্য বিরোধী শিবির থেকে নকশাল সমস্যা সমাধানে শক্তিপ্রয়োগের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবি করা হয়। দেশে নকশাল উপদ্রব যে কমেছে, তা মেনে নেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব। তবে দেশ যে এখনও সম্পূর্ণ নকশালমুক্ত হয়নি তা-ও মনে করিয়ে দেন তিনি।

    তিনি জানান, শক্তিপ্রয়োগের বদলে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার মূলে পৌঁছানো উচিত। তিনি মনে করিয়ে দেন, মুলায়ম সিং যাদব উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মির্জাপুর, শোনভদ্র এবং চান্দৌলির মতো জেলাগুলি থেকে আলোচনার মাধ্যমেই নকশালবাদ নির্মূল করেছিলেন।

    কংগ্রেস সাংসদ জ্যোৎস্না মোহান্ত জানান, গত দুই দশকে ২৭০০ জন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিষয়টিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে গণ্য করার সুপারিশ করেন। আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি আরও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া উচিত বলে জানা তিনি।

    রাজনৈতিক এই তরজার মাঝেই এখন গোটা দেশের নজর এখনও মাওবাদী অধ্যুসিত এলাকাগুলির দিকে। সত্যিই কী ‘নকশাল-মুক্ত’ হলো ভারত? অমিত শাহের দাবি আর বাস্তব ছবিটার মধ্য কোনও ফাঁক নেই তো?

  • Link to this news (এই সময়)