রাজ্যে একসময়ের শাসক দল ও প্রধান বিরোধী দল হলেও এখন বাংলায় রাজনৈতিক শক্তির বিচারে কার্যত সাইনবোর্ড কংগ্রেস। দীর্ঘ কয়েকদশক পরে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়ছে কংগ্রেস। কোনও দলের সঙ্গে ভোট পূর্ববর্তী জোট বা সমঝোতায় নেই তারা। সম্প্রতি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্যের নানা প্রান্তে প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন কংগ্রেস কর্মীরা। বিধানসভা নির্বাচনের হাওড়া থেকে মালদা, মুর্শিদাবাদ থেকে আলিপুরদুয়ার, পশ্চিম মেদিনীপুর সর্বত্র এক ছবি।
আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় দলীয় পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করলেন একদল কংগ্রেস কর্মী। সোমবার দুপুরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো আলোড়ন তৈরি হয় ফালাকাটা শহরে। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় এমন কাজ বলে জানিয়েছেন তাঁরাই। প্রদেশ কংগ্রেসের আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি মৃণ্ময় সরকারের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত ফালাকাটা। রবিবারই আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক অক্ষয় কুমার বর্মনের নাম ফালাকাটা বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে কংগ্রেস। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই কংগ্রেসের ওই গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। এর আগেও দলীয় জেলা পার্টি অফিসে গোষ্ঠী কোন্দলের একাধিক ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।
একই ছবি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। কংগ্রেস পার্টি অফিসের সামনে আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর চালান কর্মীরা। জেলার ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টি আসনেই প্রার্থী বদল করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। টাকার বিনিময়ে প্রার্থী পদ বিলির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় উলুবেড়িয়ায় কংগ্রেসের অফিসে ভাঙচুৃর চালান কর্মীদের একাংশ। উলুবেড়িয়া মহকুমার তিনটি কেন্দ্রের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন স্থানীয় নেতৃত্ব। বহিরাগত প্রার্থীর পরিবর্তে স্থানীয় প্রার্থীর দাবি জানিয়েছে তাঁরা। স্থানীয় নেতাদের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের হাওড়া গ্রামীণ জেলার সভাপতি আলম দেইয়ান।
মালদা ও মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসের খাস তালুক। প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভের ছবি দেখা গিয়েছে এই দুই জেলাতেও। ক্ষোভ দেখিয়েছেন মালদার চাঁচল বিধানসভার কংগ্রেস নেতাকর্মীদের একাংশ। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে, রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা। মুর্শিদাবাদে ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে শাহনাজ বেগমের নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁর নাম ঘোষনা হতেই ডোমকল ব্লক কংগ্রেস কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন কিছু কংগ্রেস কর্মী। পরে অবশ্য দলীয় কার্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক কংগ্রেস কর্মী আবুল বাশার জানান, বহিরাগত কোনও প্রার্থী তাঁরা মেনে নেবেন না। তিনি বলেন, ‘এখানে কংগ্রেস দলটাকে আমরা বুক দিয়ে আগলে রেখেছি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা ৬টা পঞ্চায়েত জিতেছি। দল না মানলে ওঁর বিরুদ্ধে ভোট বয়কট করব।’ যদিও ডোমকল শহর কংগ্রেস সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের নেতা অধীর চৌধুরী যখন প্রার্থী করেছেন, তখন বিচার বিবেচনা করে প্রার্থী করেছেন।’