রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunodoy Banerjee) মৃত্যু ঘিরে রবিবার রাত থেকে নানা বিষয় উঠে আসছে। কেউ বলছেন, ‘বোট থেকে সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিলেন রাহুল।’ আবার একটি সূত্রের খবর, সমুদ্রে এগিয়ে যেতেই কোনও ভাবে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর। কিন্তু মর্মান্তিক এই ঘটনার সময়ের যে ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে, তাতে উঠে আসছে একেবারেই অন্য তথ্য। দিঘা হাসপাতালে মৃতদেহ নিয়ে আসার কারণে সেখানকার থানাতেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। আলাদা করে কোনও অভিযোগ কেউ দায়ের করেননি। ঘটনাটি যে দুর্ঘটনা সে বিষয়ে নিশ্চিত পুলিশ।
রবিবার বিকেলে তালসারিতে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৪৩)। ঘটনার আকস্মিতা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বাংলাকে। এ ভাবে জলজ্যান্ত একটা প্রাণ চলে যেতে পারে, ভাবতেই পারছেন না কেউ।
রাহুলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে রবিবার থেকে নানা তথ্য ঘোরাফেরা করছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের হাতে যে ফুটেজ এসেছে, তাতে স্পষ্ট হয়, বোট উল্টে পড়ে যাওয়ার কোনও বিষয় নেই।
জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘শুটিংয়ের সময়ের যে ফুটেজ আমরা পেয়েছি, তাতে কোনও বোটের উপস্থিতি দেখা যায়নি। দেখা যাচ্ছে, ক্যামেরার সামনে অথৈ সমুদ্র। রাহুলরা নিজেরাই এগিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই জল বেড়ে যায়। স্বল্প সময়ের যে ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা যা জানিয়েছেন, তার ভিত্তিতে আপাতত এমনটাই জানা গিয়েছে। ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।’
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, রাহুলের ফুসফুসে অতিরিক্ত বালি ও জল ঢুকে যায়। ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। শরীরে কোনও অ্যালকোহলের উপস্থিতি ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভিসেরা পরীক্ষাও হবে। সূত্রের খবর, খাদ্যনালীর ভিতরেও বালি ও নোনা জল ঢুকে গিয়েছিল। এর পরে যখন তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, নিথর রাহুল। বাবা-মা আদর করে নাম রেখেছিলেন অরুণোদয়। ততক্ষণে সমুদ্রের বুকে অস্ত গিয়েছে সেই অরুণ।