এই সময়, কোচবিহার: তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার দক্ষিণের প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিকের প্রচারে সোমবার কোচবিহার আসেন সাংসদ–অভিনেতা দেব। তাঁর কনভয় কোচবিহার শহর থেকে চান্দামারি গ্রামে পৌঁছনোর আগেই প্রথমে তোর্সা সেতু এবং পরে ঘুঘুমারি চৌপথিতে আটকে যায়। সেখানে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তেজনার মধ্যে কোনওক্রমে বেরিয়ে যায় অভিনেতার কনভয়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল ও পুলিশ একযোগে বিজেপিকে গালিগালাজ করেছে। তৃণমূল গাড়িতে হামলাও চালিয়েছে। যদিও এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
সোমবার সকাল থেকে ঘুঘুমারি চৌপথি এলাকায় পথ অবরোধ করেন ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ১৭৪ নম্বর বুথের ভোটাররা। এই বুথে ১৯৬ জনের নাম ডিলিট হওয়ার অভিযোগে পথ অবরোধ করেন তাঁরা। এরই মধ্যে বেলা ১১টা নাগাদ কোচবিহার দক্ষিণের গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস বিধানসভার গ্রামীণ এলাকায় প্রচারে যাওয়ার জন্য গাড়ি নিয়ে কোচবিহার শহর থেকে বেরিয়েছিলেন। পথ অবরোধের ফলে তোর্সা সেতুতে আটকে যায় তাঁর গাড়ি। অন্য দিকে, কিছুক্ষণ বাদেই ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল অভিজিৎ দে ভৌমিক ও অভিনেতা দেবের কনভয়। সেতুর উপরে পৌঁছতেই বিজেপির গাড়ি পথ আটকে দেয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের গাড়ি গেলে তাঁদের গাড়িও ছাড়তে হবে বলে দাবি জানান বিজেপি কর্মীরা। গাড়ি থেকে নেমে আসেন অভিজিৎ। দু'পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বচসা। পরবর্তীতে বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি আগে ছেড়ে দেওয়া হয়। পিছনে তৃণমূলের প্রার্থী এবং দেবের কনভয় আসতে থাকে। কিন্তু ঘুঘুমারি চৌপথি পৌঁছতেই প্রথমে বিজেপির গাড়ি আটকে দেন অবরোধকারীরা। যার ফলে তৃণমূল প্রার্থী এবং দেবের কনভয়ও আটকে যায়। ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়ে যায় সেখানে। পুলিশ শেষে সমস্ত গাড়িকে নিরাপদে বের করে দেয়।
বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বলেন, 'পরিকল্পিত ভাবে এ দিন তৃণমূল ঘুঘুমারিতে পথ অবরোধ করেছিল। ওই এলাকায় আমার প্রচারে যাওয়ার কথা ছিল। সেটা যাতে না করতে পারি, তার জন্যই এই কাজ করে তারা।' তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী গাড়ি থেকে নেমে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। ক'জন পুলিশ অফিসারও গালিগালাজ করেছেন। গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিজেপি প্রার্থীর পিএ এবং গাড়ির চালক আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে অভিজিৎ বলেন, 'যা হয়েছে, তা খুবই দুঃখজনক।'