এই সময়, জলপাইগুড়ি: চাকরি খুইয়ে ভোট ময়দানে ভেসে থাকলেন স্বপ্না। বরখাস্ত হয়ে নিজের প্রার্থিপদের হার্ডলস্ টপকালেন এশিয়াডে সোনাজয়ী এই অ্যাথলিট। সোমবার তাঁকে স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইনস্পেক্টর পদ থেকে বরখাস্ত করে রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন। পাশাপাশি রেলের পক্ষ থেকে 'নো ডিউ' সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজগঞ্জ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আর কোনও বাধা থাকল না এই তৃণমূল প্রার্থীর।
প্রার্থী হওয়ার পরে এত দিন রাজগঞ্জে প্রচারে দেখা যায়নি তাঁকে। হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে দৌড়তে হচ্ছিল। রবিবার বিকেল থেকে প্রচারে নামেন স্বপ্না। এ দিন সার্টিফিকেটও হাতে পান। সোমবার সকালে কৃষ্ণ দাস ও খগেশ্বর রায়কে নিয়ে প্রচার করেন তিনি। কাল, বুধবার রাজগঞ্জে জনসভা করতে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজগঞ্জের শিকারপুরের হরিমন্দির এলাকায় তার প্রস্তুতি সভায় হাজির ছিলেন প্রার্থী। রেলের সার্টিফিকেট প্রসঙ্গে স্বপ্না বলেন, 'আমাকে নো ডিউ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী হতে আর বাধা নেই। তাই পুরোদমে প্রচার করছি।'
চাকরিরত অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় রেলের পক্ষ থেকে স্বপ্নার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে তদন্ত শুরু হয়। এরই মধ্যে তাঁকে রাজগঞ্জে প্রার্থী করে তৃণমূল। নিয়ম অনুযায়ী স্বপ্না চাকরি থেকে অব্যাহতি চাইলে রেল সেই অনুমতি দেয়নি। তাই তিনি হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দু'বার শুনানি হলেও কোনও ফয়সালা হয়নি। বিচারপতি স্বপ্নাকে ক্ষমা চেয়ে রেলকে চিঠি দেওয়ার কথা বললেও তা নিয়ে যথেষ্ট জলঘোলা হয়। তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
স্বপ্নার আইনজীবী নিলয় চক্রবর্তী বলেন, 'এ দিন রেলের পক্ষ থেকে 'নো ডিউ' সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। তাই মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকল না।' রেলের আইনজীবী, ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার বলেন, 'স্বপ্না রেলকে ভুল স্বীকার করে চিঠি দেওয়ার পরেই রেল তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে 'নো ডিউ' সার্টিফিকেট দিয়েছে।'