এই সময়, বালুরঘাট: রাস্তা এক। টেন্ডার হলো দু'বার। এমএলএ ফান্ডের টাকায় এক ঠিকাদারকে, আবার 'আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান' প্রকল্পে ওই একই রাস্তায় কাজ করার জন্য আর এক ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে ওয়ার্ক অর্ডার। একই রাস্তার জন্য দু'টি পৃথক ফান্ড থেকে কেন অর্থ বরাদ্দ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বালুরঘাট ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অনেক সময়ে এমন ভুল হয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, বিধায়ক তহবিলের টাকায় কাজ করার জন্য ঠিকাদার মাপজোক শুরু করলে তৃণমূল নেতারা 'আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান' প্রকল্পে তড়িঘড়ি ওই রাস্তায় বালি ও সিমেন্ট ফেলা শুরু করেন। বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কালাইবাড়ি সংসদে এমন ঘটনার পরে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজনীতি নয়, তাঁরা অবিলম্বে রাস্তা চান।
জানা গিয়েছে, ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙ্গি কালাইবাড়ি সংসদে হরিবাসর তলা থেকে প্রায় আড়াইশো মিটার রাস্তা বেহাল। ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। কিন্তু ওই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের। রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য। বছর খানেক আগে বেহাল রাস্তাটি কংক্রিটের করার দাবিতে বিক্ষোভদেখান স্থানীয়রা। ওই সময়ে পাকা রাস্তার জন্য স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অশোককুমার লাহিড়ীর দ্বারস্থ হন তাঁরা। বিধায়ক তহবিল থেকে প্রায় চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন অশোক। অন্যদিকে, ওই একই রাস্তা ঢালাই করার জন্য 'আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান' প্রকল্পে দু'টি ধাপে প্রায় ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তাটি ঢালাইয়ের জন্য প্রায় বছর খানেক আগেই বিধায়ক জেলাশাসককে ডিপিআর পাঠান। চলতি মাসের ১৪ তারিখ ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে রাস্তার মাপজোক করতে যান ঠিকাদার। এতেই টনক নড়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বদের। তারপরেই মঙ্গলবার তাঁরা তড়িঘড়ি ওই রাস্তায় বালি-সিমেন্ট ফেলেন বলে অভিযোগ। যদিও পরে বিজেপির অভিযোগে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মী সরকার বলেন, 'ভোটের আগে সবাই তড়িঘড়ি কাজ করতে চাইছে। অথচ এই রাস্তা কবে থেকে শুনছি কাজ হবে, কাজ হবে।' বিজেপির বুথ সভাপতি সাবিত্রী সরকার বলেন, 'সামনে ভোট। তাই গ্রামবাসীদের কাছে ভালো হওয়ার জন্য বিধায়কের দেওয়া বরাদ্দ টাকা আটকে ওরা কাজ করতে চাইছে।' পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য জ্যোৎস্না দাস বলেন, 'বিধায়ক ১০০ মিটারেরও কম রাস্তার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। আমরা ২৫০ মিটার রাস্তা করব।'