• একাধিক জায়গায় কংগ্রেস প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ, পার্টি অফিস ভাঙচুর
    এই সময় | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, আলিপুরদুয়ার, মালদা ও ইসলামপুর: কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হতেই উত্তরের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখানো শুরু করলেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। কোথাও অফিস ভাঙচুর হলো। কোথাও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন কর্মীরা। ক্ষয়িষ্ণু কংগ্রেসের কিছুটা হলেও উত্তরবঙ্গে এখনও যে শক্তি রয়েছে, এই বিক্ষোভ তারই প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    প্রার্থী বহিরাগত। তাই তাঁকে মানা সম্ভব নয়। সোমবার সংবাদমাধ্যমকে ডেকে দলীয় পার্টি অফিসে ব্যপক ভাঙচুর করলেন কংগ্রেসের একদল বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। সোমবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে ফালাকাটা শহরে। দুই দল কংগ্রেস কর্মীর মধ্যে বাগবিতন্ডা শেষ হতে না হতেই শুরু হয় ভাঙচুর। রবিবার আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক অক্ষয়কুমার বর্মনের নাম ফালাকাটা বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে কংগ্রেস। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এই গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে কংগ্রেস। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা মিন্টু নাগ বলেন, ‘জেলা সভাপতি স্বেচ্ছাচার চালিয়ে একজন বহিরাগতকে প্রার্থী করেছেন। তাতেই দলীয় কর্মীদের মধ্যে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।’ তাঁর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ নিয়ে মুখ খোলেননি জেলা সভাপতি মৃণ্ময় সরকার। ভাঙচুর নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভাঙচুরের বিষয়টি জানা নেই। কেন এমন ঘটল, তা খতিয়ে দেখব।’ এর আগেও জেলা পার্টি অফিসে দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি শান্তনু দেবনাথ ও বর্তমান সভাপতি মৃণ্ময় সরকারের গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিক বার মারপিটের ঘটনা ঘটছে। এবার বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ফের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোল ইভিএমে ছাপ ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    এদিকে চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের পছন্দের প্রার্থী না হওয়ায় দলের কর্মীদের একাংশ রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন। রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুরের মধ্যে কয়েক দফায় চাঁচল ১ ব্লকের মহানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্টুপুর এলাকায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলে। এবারে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক আসিফ মেহেবুব। কিন্তু এই কেন্দ্রে চাঁচল ১ ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি আঞ্জারুল হক ওরফে জনিকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়েছিলেন দলেরই সিংহভাগ নেতা–কর্মীরা। রবিবার কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা হতেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জেলা সভাপতি ইশা খান চৌধুরী তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং করে মোটা টাকার বিনিময়ে আসিফকে প্রার্থী করেছেন। যদিও ইশা বলেন, ‘প্রার্থী ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আমরা আশা করছি প্রত্যেকে একসঙ্গে কাজ করে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করবেন।’

    এরই পাশাপাশি প্রার্থী ঘোষণার পরে উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এল। প্রাক্তন বিধায়ক আলি ইমরান রমজ (ভিক্টর)-কে চাকুলিয়ায় প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি চাকুলিয়ার পাশাপাশি গোয়ালপোখরেও প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন।তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়ে ছিলেন, গোয়ালপোখরের বিধায়ক গোলাম রব্বানি যেখানে প্রার্থী হবেন, সেখানে তিনিও লড়তে চান। কিন্তু গোয়ালপোখরের টিকিট না পেয়ে ভিক্টর বলেন, ‘দল আমাকে চাকুলিয়ায় প্রার্থী করেছে ঠিকই, কিন্তু গোয়ালপোখরের মানুষ আমাকেই চান। তৃণমূলের সঙ্গে শক্ত লড়াই করতে হলে সেখানে আমাকে প্রয়োজন। দল বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুক। নমিনেশনের আগে প্রার্থী বদল করা হোক।’ আর দলীয় প্রার্থীর মুখে এ কথা শুনে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠেছেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘ভিক্টর কোনও বীর বা মহাপুরুষ নয়। তিনি রাহুল গান্ধীও নন, যে তাঁকে দু’টো কেন্দ্রে টিকিট দিতে হবে।’ গোয়ালপোখরের কংগ্রেস প্রার্থী নাসিম এহসান অবশ্য এই বিতর্কে মন্তব্য করতে নারাজ। তাঁর কথায়, ‘ভিক্টরের মন্তব্যের উত্তর আমি দেব না। দল আমাকে প্রার্থী করেছে। আমি প্রচার শুরু করে দিয়েছি।’

  • Link to this news (এই সময়)