মাওবাদী দমন: নিজের পিঠ চাপড়াতে চাইছেন অমিত শাহ, আক্রমণ মহুয়ার
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভায় মাওবাদী ইস্যুর চর্চার সমালোচনা করল কংগ্রেস, তৃণমূল। সংসদ চত্বরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, এলপিজি হোক বা বিদেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের সমস্যার মতো বর্তমান ইস্যু নিয়ে সরকার আলোচনা থেকে কেন পালাচ্ছে? তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র তো সরাসরি বলেই দিলেন, বর্তমান সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই মাওবাদী ইস্যু নিয়ে আলোচনা করে সংসদে অমিত শাহ নিজের পিঠ চাপড়াতে চাইছেন। তাঁর চাঁচাছোলা সমালোচনাকে বাহবা দিলেন সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব, কংগ্রেসের মানিক্কম টেগর।
মহুয়ার মন্তব্য, সরকার গত কয়েক বছরে কতজন মাওবাদী মেরেছে, তা বেশি করে তুলে ধরতে চায়। কিন্তু দমনে জোর না দিয়ে উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের আত্মসমর্পণে জোর দেওয়া উচিত। পুনর্বাসন করানো উচিত। তবেই মাওবাদী সমস্যার সমাধান বলেই দাবি করেন মহুয়া মৈত্র। বলেন, মিলিটাররাজ কোনো সমাধান হতে পারে না। আত্মসমর্পণ এবং পুনর্বাসনই পথ। মহুয়া লোকসভায় জানান, ২০১১-’১৬, পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩২৮ জন মাওবাদীকে আত্মসমর্পণ করিয়েছেন। ২২৫ জনকে পুনর্বাসন দিয়েছেন। তাঁরা অস্ত্র ছেড়ে সাধারণ জীবনযাপন করছেন। দুয়ারে সরকারের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাংলায় গত তিন বছর একটিও মাওবাদী মৃত্যুর খবর নেই। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার অন্যতম সাফল্য। মহুয়ার প্রশ্ন, একলব্য স্কুলের ৩১ শতাংশ বন্ধ। ৬৯ শতাংশে শিক্ষকই নেই। তাহলে কীসের সাফল্য? শুধুই সংসদে নিজেদের পিঠ চাপড়ানোর পরিকল্পনা?
পালটা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ছত্তিশগড়ের বস্তার থেকে প্রায় নিশ্চিহ্ন মাওবাদী সমস্যা। তাঁর দাবি, বিগত কয়েক বছরে মাওবাদীদের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কমান্ডারদের হয় আধা সামরিক বাহিনী খতম করেছে, অথবা তারা ক্যাডার সহ আত্মসমর্পণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালিকা দিয়ে বলেছেন, যে ১২ রাজ্যে সবথেকে বেশি মাওবাদী সমস্যা ছিল, তার সিংহভাগ নকশালমুক্ত। বস্তার জোনের প্রতিটি এলাকায় এখন স্কুল গড়ে তোলা হচ্ছে। অমিত শাহের বক্তব্যে যতটা মোদি সরকারের আমলের সাফল্যকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, ততোধিক ইউপিএ আমলকে ব্যর্থ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। রেড করিডরের মাওবাদীদের থেকে কোনো অংশে শহুরে শিক্ষিত আরবান নকশালদের অপরাধ কম নয় বলেও তোপ দেগেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, মাওবাদীদের সামান্যতম বীজেরও শেষ যাতে না থাকে সেই চেষ্টাই হচ্ছে। তাই এমন নয় যে, নিশ্চিন্ত হয়ে সরকার বসে থাকবে। প্রসঙ্গত, মাওবাদীদের উদ্দেশে কেন্দ্রের দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ।