সরকারি পোর্টালে কাজ চেয়ে নথিভুক্তি বাড়ছে, কর্মসংস্থানের দাবি নিয়েই প্রশ্ন
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের মোদি সরকার দাবি করছে, দেশে ক্রমাগত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসংক্রান্ত বিষয়ে আরও গতি আনার উদ্দেশ্যে একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প এবং কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সময় জানিয়েছে, সারা দেশে বেকারত্বের হারও ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এই দাবির প্রমাণে একের পর এক পিএলএফএস (পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে) সমীক্ষা রিপোর্টও প্রকাশ করেছে মোদি সরকার। কিন্তু কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে বেকারত্ব হ্রাসের দাবি কি শুধুমাত্র কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গিয়েছে? এপ্রশ্ন উঠছে। কারণ চর্চা শুরু হয়েছে, কেন্দ্রের দাবি এবং ঘোষণার সঙ্গে আদৌ বাস্তবের মিল রয়েছে কি? শ্রমমন্ত্রকের একটি পরিসংখ্যান বলছে, বিগত পাঁচ বছরে কাজ চেয়ে এনসিএস (ন্যাশনাল কেরিয়ার সার্ভিস) পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করেছেন সাড়ে চার কোটিরও বেশি কর্মপ্রার্থী। বিগত পাঁচ বছরে এনসিএস পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছে আট কোটিরও বেশি শূন্যপদ। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এর মধ্যে শুধু এক বছরেই এমন নথিভুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় চার কোটিতে। দেশে যদি বেকারত্বের হার ক্রমশ কমতে থাকে এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পায় কর্মসংস্থানের সুযোগও, তাহলে কোটি কোটি কর্মপ্রার্থী ন্যাশনাল কেরিয়ার সার্ভিস পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করাচ্ছেন কেন, স্বাভাবিকভাবেই তা রীতিমতো আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সোমবার লোকসভায় এনসিএস পোর্টাল নিয়ে আলাদাভাবে লিখিত প্রশ্ন করেন একাধিক সাংসদ। সেগুলির পৃথক লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে জানিয়েছেন, বিগত পাঁচ বছরে এনসিএস পোর্টালে নথিভুক্ত হওয়া মোট শূন্যপদের সংখ্যা ৮ কোটি ১০ লক্ষ। ওই সময়কালের মধ্যে ৪ কোটি ৪৭ লক্ষেরও বেশি কর্মপ্রার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন। নথিভুক্ত নিয়োগকর্তার সংখ্যা প্রায় ৫৬ লক্ষ ১৭ হাজার। এরই পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এনসিএস পোর্টালে শূন্যপদ নথিভুক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৬৬ লক্ষেরও বেশি। অন্যদিকে, সারা দেশে বেকারত্বের হার নিয়ে ঠিক কী জানিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার? এপ্রসঙ্গে সোমবার অন্য একটি প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানিয়েছেন, পিএলএফএস সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে দেশে বেকারত্বের হার ছিল সাত শতাংশ। কিন্তু ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে তা কমে হয়েছে তিন শতাংশ।