সংবাদদাতা, চোপড়া: ভোটপাখি হয়ে এলাকায় প্রচারে এসে ভোট নিয়ে চলে যান বিজেপি প্রার্থী। পাঁচ বছরে দার্জিলিংয়ের সাংসদের দেখা মেলে না বলে অভিযোগ অনেক পুরনো। তাই সাংসদ রাজু বিস্তাকে সামনে পেয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন-চোপড়া বিধানসভা এলাকার উন্নয়নের জন্য এমপি ফান্ড থেকে কী কাজ করা হয়েছে? এতেই চটে লাল সাংসদ। মেজাজ হারিয়ে তিনি পাল্টা ওই সাংবাদিককে শাসকদলের দালাল বলে আক্রমণ করলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে যায় এলাকায়। বাসিন্দারা ওই সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়ে একসুরে বলেন, আমরা সাংসদের কাজের হিসাব চাই।
দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে রবিবার রাত থেকেই উত্তপ্ত ছিল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার মাঝিয়ালী গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁচাকালী এলাকা। এই ঘটনার পর সোমবার এলাকায় পৌঁছন রাজু। তাঁকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যায় কাঁচাকালী বাজার এলাকায় দলীয় ঝান্ডা লাগানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা সংঘর্ষের রূপ নেয়। দু’পক্ষের মারপিটে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকেই এলাকা থমথমে ছিল। মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এদিন সকালে প্রথমে কালাগছ এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন রাজু। সেখান থেকে তিনি সরাসরি চোপড়া থানায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন আইসির সঙ্গে। থানা থেকে বেরিয়ে সাংসদ অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মীরা পতাকা লাগাতে গেলে তৃণমূল আশ্রিত ২৫-৩০ জন দুষ্কৃতী হামলা চালিয়েছে। এরপর তিনি বিজেপি প্রার্থী শংকর অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে কাঁচাকালী এলাকায় প্রচার সারেন। সাংসদের সফরের প্রতিবাদে এদিন দুপুরে কাঁচাকালী বাজারে পাল্টা মিছিল বের করে তৃণমূল। মাঝিয়ালি অঞ্চল কোর কমিটির চেয়ারম্যান তথা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ একরামুল হক বলেন, সাংসদ দীর্ঘ দু’বছর এলাকায় আসেননি। এখন ভোট আসতেই সন্ত্রাস ছড়াতে ঢুকেছেন। এদিন সকাল থেকেই থমথমে পরিবেশ ছিল কাঁচাকালী বাজারে। খোলা ছিল হাতে গোনা দোকান। চোপড়ার তৃণমূল প্রার্থী হামিদুল রহমান বলেন, বিজেপি মানেই গুন্ডারাজ। গত সাত বছরে সাংসদ চোপড়ার জন্য সাত হাজার টাকার কাজও করেননি। মানুষের প্রশ্ন তোলা ন্যায়সঙ্গত। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।