• ‘সতীর্থ’ মৌসমের বিরুদ্ধে রহিমের অস্ত্র পোক্ত সংগঠন, ঘরে ফিরে প্রথম পরীক্ষা কোতোয়ালি বাড়ির মেয়ের
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • সন্দীপন দত্ত, মালদহ: কংগ্রেস রবিবার প্রার্থী ঘোষণা করতেই মালদহের রাজনৈতিক মহলের নজর এখন মালতীপুর আসনে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের দিকে। এক সময়ের সতীর্থ এবারের বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী।

    পোড়খাওয়া সংগঠক ও রাজনীতিক আব্দুর রহিম বক্সি। যদিও পরিষদীয় এবং সংসদীয় রাজনীতিতে ষাঠোর্ধ্ব রহিমের থেকে মাঝবয়সী প্রতিদ্বন্দ্বী মৌসম বেনজির নুরের অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও বেশি। মৌসমের বাড়তি পাওনা, তিনি কোতোয়ালি বাড়ির মেয়ে। রহিমের শক্তি আবার দলের মজবুত সংগঠন ও সাংগঠনিক দক্ষতা। এবার মৌসমের বিরুদ্ধে প্রচারে রহিমের হাতিয়ার এখন দলবদলের তত্ত্ব ও মীরজাফরের প্রতিশ্রুতি। তাঁর মন্তব্য, একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ধরে ব্যাপক উন্নয়ন, আরেক দিকে মীরজাফরের প্রতিশ্রুতি। মানুষই ঠিক করবেন, কাকে বেছে নেবেন।

    মালদহের ভোট আর বরকত গণিখান চৌধুরীর নাম উচ্চারিত হবে না, এমনটা হয় না কখনও। বিশ্লেষকদের মতে, মালদহের রাজনীতিতে বরকত সাহেব আজও প্রাসঙ্গিক। ভোটে কে প্রার্থী হবে, তার থেকে বেশি চর্চা হয় কোতোয়ালি পরিবারের কে টিকিট পেলেন তা নিয়ে। দীর্ঘ ২০ বছর পর বাংলায় একা লড়ছে কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় মালতীপুর কেন্দ্রে মৌসমের নাম ঘোষণা করেছে কংগ্রেস।

    রুবি নুরের মৃত্যুর পর ২০০৯ সালের উপ নির্বাচনে সুজাপুর থেকে জিতে বিধায়ক হন মৌসম। ওই বছরে মালদহ উত্তর কেন্দ্র থেকে জিতে প্রথম সংসদে যান তিনি। ২০১৪ সালের একই কেন্দ্র থেকে জিতে টানা ১০ বছর সাংসদ ছিলেন মৌসম। সংসদীয় রাজনীতির মাঝেই ২০১১ সালে যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী হন তিনি। 

    মাঝে উনিশের লোকসভা ভোটে ছন্দ কাটে মৌসমের। সেবার বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মুর কাছে পরাজিত হন। তারপর দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দিয়ে জেলা সভাপতি। পরের বছর, ২০২০ সালে মৌসমকে রাজ্য সভায় পাঠায় তৃণমূল। বিধানসভা ভোটের তৃণমূল ছেড়ে পুরনো দলে ফিরে আসেন মৌসম। বছর পনেরো পর আবার বিধানসভায় তাঁর ভাগ্য পরীক্ষা। কিন্তু হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রচারে কোন কৌশল নেবেন তিনি? মৌসম বলেন, মালতীপুরে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখানে  না আছে কলেজ, না স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। কর্মসংস্থানের কথা ছেড়েই দিন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ মানুষের সার্বিক উন্নয়নের দাবি তুলে ধরছি। 

    মালতিপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দলের জেলা সভাপতি রহিম বক্সি। মালদহের অন্যাতম হেভিওয়েট প্রার্থী। আরএসপির ছাত্র সংগঠন পিএসইউ থেকে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। এরপর সামলেছেন আরএসপির যুব সংগঠন আরওয়াইএফ এবং পরবর্তীতে কৃষক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ২০১১ সালে চাঁচল ভেঙে মালতীপুর বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হয়। সেবছরই ওই কেন্দ্র থেকে বামফ্রন্টের শরিক দল আরএসপির বিধায়ক হন রহিম। তবে, ২০১৬ বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের আলবেরুনি জুলকারনাইনের কাছে পরাজিত হন। একুশে তৃণমূলের টিকিটে পুনরায় বিধায়ক। • প্রচারে মৌসম বেনজির নুর (উপরে) ও আব্দুর রহিম বক্সি। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)