এই সময়: রেললাইনের পাশে একটি হরিণ মুখে প্লাস্টিকের প্যাকেট নিয়ে চলেছে। এমন একটি ছবি কয়েক দিন আগে প্রকাশিত হয়েছিল ‘এই সময়’–এর পাতায়। পরিবেশবিদদের একাংশ অভিযোগ করেছিলেন রেলের ট্র্যাকে জমা হওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে। উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এবং জঙ্গলমহল অঞ্চল এমন ভাবেই রেলের কারণে প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরে উঠছে বলে অভিযোগ। জঙ্গলের বিভিন্ন প্রাণী খাবার মনে করে ওই বর্জ্যই মুখে করে নিয়ে যাচ্ছে জঙ্গলের আরও গভীরে। ফলে দূষণ শুধু রেলের ট্র্যাক ও সংলগ্ন অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।
পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নজরে পড়েছে কেরালা হাইকোর্টেরও। যে সমস্যা দেখেও রেল উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয় না — আরও এক বার সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে আদালত। কিছুদিন আগে যাত্রীদের সুবিধার্থে দূরপাল্লার সব ট্রেনেই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল বম্বে হাইকোর্ট। এ বার পরিবেশরক্ষার প্রশ্নে এগিয়ে এসেছে কেরালা হাইকোর্ট। রেলের ট্র্যাক বরাবর এবং ট্র্যাকের উপরে জমে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিচারপতি বি কুরিয়ান টমাস এবং পি গোপীনাথের ডিভিশন বেঞ্চ। প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণের সমস্যা মোকাবিলায় হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ একটি স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) মামলার শুনানি করছে।
সেই শুনানিতেই রেলের ট্র্যাক এবং ট্যাকের পাশে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্যের সমস্যা নিয়ে হাইকোর্টের পরামর্শ, ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম কর্পোরেশন (আইআরসিটিসি) তাদের ঠিকাদারদের জন্যে পরিবেশে মিশে যায় এমন (বায়োডিগ্রেডেবল) প্যাকেজিংয়ের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করুক, যাতে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো যায়। বিচারপতি গোপীনাথের মন্তব্য, ‘আইআরসিটিসি-কে বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিংয়ে যেতে হবে।’ শুধুমাত্র কেরালারই তিরুবানন্তপুরম থেকে কাসারগড় রুটের একটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে কতটা বর্জ্য তৈরি হয়, সে দিকে রেলেকে নজর দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে আদালত। দুই বিচারপতি জানিয়েছেন, আইআরসিটিসি বিভিন্ন ধরনের খাবার ও স্ন্যাকসের বড় ক্রেতা। তারা চাইলেই যাত্রীদের পরিবেশন করা সব রকমের খাবারের জন্যে পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিংয়ে জোর দিতে পারে। মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে ২৯ মে।
২০২৪–এ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেলের ট্র্যাকে চালানো সমীক্ষা থেকে জানা যায়, রেলপথ থেকে দিনে মোট চার হাজার টনেরও বেশি বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৭১০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য। তবে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল ২০ হাজার কিলোমিটার রেলপথে। গোটা দেশে রেলপথের দৈর্ঘ্য এর তিন গুণেরও বেশি — ৭০ হাজার কিলোমিটারের কাছাকাছি। সুতরাং সমীক্ষায় পাওয়া প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ যে আসলের চেয়ে অনেকটাই কম, বলাই বাহুল্য। জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, রেলের প্রত্যেক যাত্রী গড়ে প্রতিদিন রেল–চত্বরে প্রায় ন’গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলেন।