• কোপে রক্তাক্ত যুবক, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা, সাহায্য করলেন না কেউ!
    এই সময় | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, ভাঙড়: ব্লক অফিসে ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলেন এক যুবক। গেট থেকে বাইরে পা রাখতেই দুই যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। পেটে, বুকে, গলায় একাধিক জায়গায় আঘাত লাগে। তীব্র যন্ত্রণায় তাঁকে কাতরাতে দেখেও বিডিও অফিসে ভিড় করে থাকা বহু মানুষের মধ্যে কেউ আহতকে উদ্ধার করতে যায়নি বলে অভিযোগ। সোমবার ভর দুপুরে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙড়–২ ব্লক অফিসের বাইরে বিজয়গঞ্জ বাজারে। আহতের নাম রফিকুল খান। তাঁর বাড়ি বিজয়গঞ্জ বাজার থানার চকমরিচায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    আহত ব্যক্তি ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খাঁ খুনের অন্যতম আসামী। গত বছর ১০ জুলাই বিজয়গঞ্জ বাজারের খালপাড়ে দুষ্কৃতীরা গুলি করে, কুপিয়ে খুন করেছিল রাজ্জাককে। ওই ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্ত মোফাজ্জেল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে। পরে রফিকুল খান–সহ বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রফিকুলই রাজ্জাককে গুলি করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ছিলেন মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য। কয়েকদিন আগে রফিকুল জামিনে ছাড়া পান। এ দিন ব্লক থেকে অফিসের বাইরে বেরোতেই তাঁর উপরে হামলা করে দুই যুবক বাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। দুষ্কৃতীরা বিজয়গঞ্জ বাজারে মেলার মাঠের কাছে একটি পুকুরে তাদের জামা ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

    ভোটের সময়ে ব্লক অফিস চত্বরে কড়া নিরাপত্তা থাকার কথা থাকলেও ভাঙড় ও বিজয়গঞ্জ বাজার থেকে মাত্র একশো-দেড়শো মিটার দূরে কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, এই ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও আহত রফিকুলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেনি। আহত যুবক বাঁচার তাগিদে পুলিশের গার্ডরেল আঁকড়ে ধরে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু গার্ডরেল পড়ে যাওয়ায় তিনি উঠতে পারছিলেন না।

    অভিযোগ, উপস্থিত জনতা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার না করে তাঁর ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিল। থানার নিজের গাড়ি থাকতেও পুলিশ একটি অটোতে করে রফিকুলকে নলমুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। রফিকুলের রাজনৈতিক পরিচয় কি? এই ঘটনার পিছনে কে বা কারা যুক্ত থাকতে পারে সে ব্যাপারে অবশ্য ভাঙড়ের শাসক বা বিরোধী কোনও দলের কোনও নেতা কোনও মন্তব্য করেননি।

  • Link to this news (এই সময়)