• ফোনেও ভাঙল না মান, মমতার সভায় গরহাজির সূর্য
    এই সময় | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • সুমন ঘোষ, বেলদা

    মঞ্চে সাংসদ জুন মালিয়া থেকে জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা, একাধিক দলীয় প্রার্থী এমনকী সমস্ত ছোট-বড় নেতাও রয়েছেন। সভাস্থলও কানায় কানায় পূর্ণ। কিন্তু যাঁর এখানে থাকার কথা সেই তিনি বিদায়ী বিধায়ক সূর্য অট্ট কোথায়? সোমবার নারায়ণগড়ে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় তাঁকে দেখতে পেলেন না দলের নেতা–কর্মীরা।

    এদিন নারায়ণগড় বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী প্রতিভারানি মাইতির প্রচারে বেলদায় হেলিপ্যাড থেকে নেমে মঞ্চে ওঠার সময়ে দলীয় কর্মী–সমর্থকদের দিকে হাত নাড়েন মমতা। মঞ্চে নেতা-নেত্রীদের মধ্যে সূর্যকে দেখতে না পেয়ে হাত নেড়ে পুরোনো কর্মী দীনেন রায়কে ডাকেন। কিছু একটা পরামর্শ দেন। এর পরে ডাকেন জেলা সভাপতি সুজয় হাজরাকেও। ফের দ্বিতীয়বার দীনেনকে ডাকেন মমতা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সূর্যকে বুঝিয়ে বাড়ি থেকে সভাস্থলে আনার কথা দলনেত্রী বলেছিলেন দীনেনকে। বিশ্বাস ছিল, দিদির কথায় অভিমান ছেড়ে হাজির হবেন সূর্য। দলীয় সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মঞ্চে বসেই দীনেন দু’বার ফোন করেন সূর্যকে। কিন্তু সূর্য তাঁকে জানিয়ে দেন, তাঁর মেয়ে পড়াশোনার জন্য বাইরে রয়েছে। মেয়েকে আনতে সেখানে গিয়েছেন তিনি। সেই বার্তা দিদিকে পৌঁছে দেন দীনেন। দীনেন বলেন, ‘দিদি সূর্যর সঙ্গে কথা বলতে বলেছিলেন। তাই ফোন করেছিলাম।’ আর সূর্যর কথায়, ‘দীনেনদা দু’বার ফোন করেছিলেন। আমি তো মেয়েকে আনার জন্য বাইরে রয়েছি। সেটাই দীনেনদাকে জানিয়েছি।’

    তবে এই ঘটনায় অসন্তুষ্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নারায়ণগড়, কেশিয়াড়ি এবং দাঁতন বিধানসভার বিদায়ী তিন বিধায়ক এ বার টিকিট পাননি। তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যদেরও সুযোগ দিতে হয়। মেয়েদের, সংখ্যালঘুদের, তফসিলিদেরও সুযোগ দিতে হয়। যদি কেউ মনে করেন, আজীবন আমি একা থাকব, আর কেউ থাকবে না, এটা ভুল। সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। দলটা সবার জন্য। আমি দলের শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী হলে একবার টিকিট পেতে পারি, নাও পেতে পারি। তাতে কী যায় আসে। ভালো কাজ করুন, ভালো কাজ করলে পাবেন। মানুষের সঙ্গে থাকলে পাবেন। আর যে মানুষের কাজ করবে না, দলকে তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ তিনি আরও জানান, টিকিট পাননি বলে এটা নয় যে, আপনাকে বিরোধিতা করতে হবে। মনে রাখবেন মানুষ কিন্তু এ সব ক্ষমা করে না।

    নারায়ণগড়ে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে বাড়িতেই রয়েছেন সূর্য। এ বারের দলীয় প্রার্থী প্রতিভারানি মাইতি তাঁর বাড়িতে গিয়ে সাহায্যের আবেদন জানানোর পরেও প্রচারে বেরোননি তিনি। এমনকী রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। অন্য দিকে, দাঁতনের বিদায়ী বিধায়ক বিক্রমচন্দ্র প্রধানও নতুন মুখ মানিক মাইতির হয়ে প্রচারে বেরোননি। এমনকী, দাঁতনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাতেও গরহাজির ছিলেন। বিক্রম সম্পর্কে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিক্রমদাকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি। বিক্রমদার সঙ্গে আমি কথা বলে নেব। উনি অনেক কাজ করেছেন। আমি আপনার সম্মান ফিরিয়ে দেব। আপনিও সাহায্য করুন।’ তা শুনে বিক্রম বলেন, ‘দলটা তো অনেক কষ্টে করেছি। তাই দলীয় প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারি না। আমাকে ডাকেনি বলে প্রচারে বেরোইনি। তবে প্রত্যেককে বলেছি, দলীয় প্রতীকে ভোট দিতে।’

    ভাষণ শেষে আদিবাসীদের সঙ্গে নাচের অনুষ্ঠানেও যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবু এতকিছুর পরেও থেকেই গেল সূর্য-কাঁটা।

  • Link to this news (এই সময়)