এই সময়, বেলদা: মুখ্যমন্ত্রী সভামঞ্চে পৌঁছনোর আগে সবার বক্তব্য শেষ করতে হবে। তিনি মঞ্চে বসে থাকবেন, আর ছোট-বড়-মাঝারি নেতা-নেত্রীরা ভাষণ দেবেন তা চলবে না। ক্ষিপ্ত হয়ে সভা মঞ্চ থেকে এমনই নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার বেলদায় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে জনসভায় এসে মঞ্চ থেকে এমনই নির্দেশ দিতে দেখা গেল তৃণমূল নেত্রীকে। তাঁর এমন নির্দেশের কারণ, নির্বাচনের কারণে তাঁকে ছুটতে হচ্ছে রাজ্যের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। প্রতিদিনই একাধিক সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। এদিন বেলদার জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৌঁছনোর কথা ছিল দুপুর ১২টা নাগাদ। ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ তিনি মঞ্চে ওঠেন। তিনি মঞ্চে ওঠার পরে তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ভাষণ দেওয়ার জন্য মেদিনীপুর লোকসভার সাংসদ জুন মালিয়ার নাম ঘোষণা করেন। জুন মালিয়ার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর নারায়ণগড় বিধানসভার প্রার্থী প্রতিভারানি মাইতিকে বক্তব্য রাখতে যান। তখনই মুখ্যমন্ত্রী সুজয়কে ডেকে জানান, প্রতিভা যেন দ্রুত বক্তব্য শেষ করেন। নতুবা দেরি হলে, পরবর্তী সভায় পৌঁছতে বিলম্ব হবে তাঁর।
সঙ্গে সঙ্গে সুজয় সেই বার্তা পৌঁছে দেন প্রতিভাকে। প্রতিভা তারপরেও বলতে থাকায় জেলা সভাপতি ফের উঠে এসে তাঁকে বক্তব্য থামাতে বলেন। কিন্তু প্রতিভা ভাষণ শেষ না করায় বিড়ম্বনায় পড়েন সুজয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বুঝতে পেরে বক্তব্য থামান প্রতিভা। এর পরে বক্তা হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণারও সূযোগ না দিয়েই সোজা চেয়ার ছেড়ে পৌঁছে যান পোডিয়ামের সামনে। তড়িঘড়ি সুজয় তাঁর কাছে পৌঁছে দেন লাউড স্পিকার। হাতে লাউড স্পিকার নিয়েই ‘বিরক্ত’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেকগুলো করে মিটিং করতে হয়। আমাকে বসিয়ে রেখে সবাই যদি এতখানি বক্তৃতা দেন, তা হলে আমার পক্ষে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গা যাওয়া সম্ভব হয় না। যাদের বক্তৃতা দেওয়ার তারা আমি আসার আগে বক্তৃতা শেষ করবেন। আমার কোনও সমস্যা নেই।’
যদিও পরে মমতা এর ব্যাখ্যাও দেন। তিনি বলেন, ‘এখন আবহাওয়া ঠিক নেই। এখানে লেট করি, আর একটা মিটিংয়ে যেতে না পারি, তারা কিন্তু কষ্ট পাবে।’