• বিহারে ‘অপারেশন লোটাস’, খতম নীতীশ রাজ, পাঁচ মাসেই জোট শরিক কোণঠাসা, শাসনতন্ত্রে বিজেপির নিয়ন্ত্রণ
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রথমে ছোটো শরিক সেজে বৃহৎ ও জনপ্রিয় দলের সঙ্গে জোট। তারপর সেই বড়ো দলের সঙ্গী হওয়ার সুবাদে ক্রমেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যে প্রভাব বিস্তার। এবং অবশেষে বড়ো শরিককে দুর্বল করে দিয়ে ক্ষমতাদখল। বিজেপির এই ‘অপারেশন লোটাস’-এর সাক্ষী একের পর এক আঞ্চলিক দল। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ছিল সবথেকে পুরানো এনডিএ শরিক। সেই দল বর্তমানে ভেঙে চৌচির। রাজ্যের ক্ষমতা এখন বিজেপির হাতে। আবার ওড়িশায় বিজেডির সঙ্গে জোট করে নিজের শক্তিবৃদ্ধি করেছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দল। জোট ছিন্ন হওয়ার পর সেই বিজেডিকে সম্পূর্ণ নখদন্তহীন করে দিয়ে গেরুয়া শিবির এখন ওড়িশায় সরকারে। বিহারেও ২০০৫ সাল থেকে লালুপ্রসাদ যাদবকে ঠেকাতে বিজেপির প্ল্যান ছিল, নীতীশ কুমারকে সমর্থন করার। প্রথমে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর। তারপর সুযোগ বুঝে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার। অবশেষে সেই পরিকল্পনা সফল। বিহার রাজনীতিতে অবতীর্ণ হওয়ার ২১ বছর পর, যাঁর ছায়ায় জনসমর্থন বাড়িয়ে বৃহৎ শরিক হয়ে ওঠা, সেই নীতীশ কুমারকে বিদায় জানিয়ে সেরাজ্যের গদিদখলের প্রায় দোরগোড়ায় বিজেপি।

    ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ভোটের আগে ও পরে নীতীশের দল সদর দপ্তরের বাইরে পোস্টার টাঙিয়ে বলেছিল, ‘পঁচিশ থেকে ত্রিশ, বিহারে নীতীশ।’ কিন্তু পাঁচ বছর তো দূর অস্ত, বিহার জয়ের পর পাঁচ মাসও তাঁকে মসনদে থাকতে দিল না বিজেপি। বিহারে নীতীশ-রাজের অস্ত হল। রাজ্যসভা নিছক অবসরের সম্মানজনক রুট। আইন অনুযায়ী, একই ব্যক্তি একসঙ্গে বিধায়ক এবং সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না। এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যেই নীতীশকে ইস্তফা দিতেই হত বিধান পরিষদ থেকে। তাই এদিন তিনি ইস্তফা দিলেন। যদিও জেডিইউ শীর্ষ নেতৃত্ব এদিনও তাঁর কাছে গিয়ে দরবার করেছে, নিয়ম অনুযায়ী তিনি এখনও অন্তত ৬ মাস মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন। অতএব এখনই যেন মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দেন। নীতীশ অবশ্য কোনো জবাব না দিয়ে রহস্য জিইয়ে রেখেছেন। 

    বিজেপি অবশ্য নিশ্চিত যে, আজ নয় কাল, নীতীশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিতেই হবে। ফলে গেরুয়া শিবিরে এখন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত করার প্রস্তুতি তুঙ্গে। লালু-নীতীশের মতো হাই প্রোফাইল দুই ব্যক্তিত্বের পর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে কে বসবেন? আপাতত সেটা নিয়ে দেশজুড়ে আগ্রহ তুঙ্গে। আর ততোধিক জল্পনা হল, অস্তাচলে যাওয়া নীতীশ কুমারের দলও কি রাজনীতির ময়দান থেকে বিদায় নেবে ক্রমে? বিহার শেষ পর্যন্ত বিজেপি বনাম তেজস্বী যাদবের রণাঙ্গণ হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিহার রাজনীতিতে জয়প্রকাশ নারায়ণের অনুগামী এবং রামনোহর লোহিয়ার আদর্শ-পন্থী একঝাঁক নেতার আগমন ঘটে গত শতকের সাত ও আটের দশকে। তাঁদের মধ্যে লালুপ্রসাদ যাদব, নীতীশ কুমার, শারদ যাদব, রামবিলাস পাসোয়ানরা ছিলেন প্রথম সারিতে। সেই প্রজন্মের শেষতম প্রতিনিধি নীতীশ। বাকিদের শূন্যস্থানে চলে এসেছেন তাঁদের পুত্ররা— তেজস্বী যাদব, নিশান্ত কুমার, চিরাগ পাসোয়ান। আর এই পরিচিতি সত্ত্বার রাজনীতি করা আঞ্চলিক দলকে ছাপিয়ে উঠে এসেছে ধর্ম রাজনীতির চ্যাম্পিয়ন বিজেপি। কিন্তু নামটা নীতীশ কুমার। শেষ মুহূর্তে বিজেপির পাকা ঘুঁটি কাঁচিয়ে দেবেন না তো?
  • Link to this news (বর্তমান)