• রাজবংশী ভাষায় ভাষণ ‘সোনার মেয়ে’ স্বপ্নার, বাবার স্মৃতি নিয়ে চা বাগানে প্রচার তৃণমূল প্রার্থীর
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, বেলাকোবা: ‘পুচু, তুই চিন্তা করিস না। মানুষ তোর সঙ্গে আছে।’ বাবা পঞ্চানন বর্মনকে হারিয়েছেন কয়েকদিন আগে। কিন্তু তাঁর বলা কথাগুলো সবসময় কানে বাজছে অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনের। বাবার সেই স্মৃতিকে সঙ্গী করেই ভোট-ময়দানে ‘সোনার মেয়ে’। 

    রেলের চাকরি থেকে অব্যাহতি মিলতেই সোমবার সাতসকালে প্রচারে বেরিয়ে পড়েন রাজগঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী স্বপ্না। চষে ফেলেন একের পর এক চা বাগান। বিজেপিকে টেক্কা দিতে রাজবংশী ভাষায় ভাষণ দিয়ে বাসিন্দাদের মন জয়ের চেষ্টা চালান। বলেন, শুধু আপনাদের জন্য কাজ করব বলে খেলা ছেড়ে, চাকরি ছেড়ে এখানে এসেছি। আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। যখনই ডাকবেন, আমাকে পাশে পাবেন। 

    প্রচারে নেমে মানুষের ভালোবাসায় আপ্লুত স্বপ্নার বারবারই মনে পড়ে যাচ্ছে বাবার কথা। ভিজে যাচ্ছে চোখের কোণ। বললেন, বাবা না থাকলে আমি যে আজ স্বপ্না বর্মন, তা কোনোদিন হতে পারতাম না। 

    খেলার ট্র্যাকে পৌঁছেছেন সাফল্যের চূড়ায়। এশিয়াডে সোনা জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢিংপাড়ার বাসিন্দা স্বপ্না। জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে পা রেখেও ভুলতে চান না নিজের অতীতকে। বললেন, বাবা, ভ্যানরিকশ চালিয়ে আমাকে পড়াশোনা শিখিয়েছেন। খেলার মাঠে পাঠিয়েছেন। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই জেনে বাবা আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেন। বলেছিলেন, পুচু, একদম চিন্তা করবি না। দেখবি, মানুষ তোর সঙ্গে আছে। কোথাও প্রচারে গিয়ে যখন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি, বাবার বলা কথাগুলো বারবার মনে পড়ছে। মনে হচ্ছে, বাবা যেন আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন। সবটা দেখছেন। 

    সংসারের জোয়াল টানতে একসময় স্বপ্নার মা বাসনাদেবী চা বাগানে কাজ করেছেন। এমন একটা সময় গিয়েছে, নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে দৈনিক ৬০ টাকা হাজিরায় কাজ করতে হয়েছে স্বপ্নাকেও। ফলে লড়াইটা কী জানেন তিনি। রাজগঞ্জের পাথরঘাটা এলাকায় দাঁড়িয়ে এদিন স্বপ্না বলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনের লড়াই আমার জানা। ওঁরা যাতে ভালো থাকেন, সবসময় সেই চেষ্টা জারি থাকবে। 

    রাজগঞ্জে রাজবংশী মুখকে দলের প্রার্থী না করায় স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের বড় অংশ যখন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেছেন, তখন প্রচারে ঝড় তুলতে মরিয়া স্বপ্না। তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল কী? উত্তরে রাজগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকারের (হারাধন) অবশ্য বক্তব্য, ভোটের ময়দানে হেভিওয়েট বলে কিছু হয় না। জনগণ যাঁর সঙ্গে থাকবেন, তিনিই জিতবেন। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর চ্যালেঞ্জ, লিখে রাখুন, রাজগঞ্জে এবার আমরা জিতছি। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)