• ২ হেভিওয়েট প্রার্থীকে টক্কর দিতে ‘ভূমিপুত্র’ ইমেজই ভরসা প্রভাসের
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • সুমন তেওয়ারি, দুর্গাপুর: ভূমিহীন খেটে খাওয়া মানুষের পার্টি। ক্ষেত মজুর, সর্বহারাদের পার্টি বলতেই নিজেদের পছন্দ করেন সিপিএম কর্মীরা। দুর্গাপুর পশ্চিমের সিপিএম প্রার্থী কিন্তু ভূমিহীন হন। বরং দুর্গাপুরের পুরসা গ্রামে তাঁদের জমিতে গড়ে উঠেছে ডিভিসির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ১৯৫৮ সালের জমি অধিগ্রহণের সেই কাগজ দেখিয়ে নিজেকে দুর্গাপুরের ভূমিপুত্র দাবি করে প্রচারে নেমেছেন দুর্গাপুর পশ্চিমের সিপিএম প্রার্থী প্রভাস সাঁ‌ই। একদা বামেদের দুর্গ দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে ১৫ বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছে সিপিএম প্রার্থী। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ২০১৬ সালে এই আসনে জয়লাভও করেছিল বামেরা। যদিও পরে সেই বিধায়ক তৃণমূলে যোগদান করে। এবার একক ক্ষমতা লাল পার্টি ফের নিজেদের শক্তি পরীক্ষায় নেমেছে। 

    বামেরা অঙ্ক না করে রাজনীতিতে নামেনা। তাহলে প্রচারের শুরুতেই কেন এত ভূমিপুত্র প্রচারে জোর। জানা গিয়েছে বৃহৎ দুর্গাপুর শহর গড়ে ওঠার আগে দুর্গাপুরে পুরসা, অঙ্গনপুর, রাতুড়িয়া, সগড়ভাঙা, ধান্ডাবাগ, গোপালমাঠ, বেনাচিতির মতো বহু গ্রাম ছিল। গ্রামের মানুষের জমিতেই একের পর এক শিল্প গড়ে ওঠে। এখানকার আদি বাসিন্দাদের এনিয়ে বেশ গর্ব বোধ আছে। প্রভাস সেই আদি বাসিন্দাদের অন্যতম। সেই পরিচয়ে সেই গোষ্ঠীকে ঐক্যবন্ধ করতেই বার বার দাবি জানিয়েছে, আমাদের জমিতেই ডিএসপি, ডিভিসি, এএসপি গড়ে উঠেছে। আমরা যাঁরা জমি দিলাম তাঁরাই আজ কাজ পাচ্ছি না। এই আসন থেকেই দীর্ঘদিন বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন বাম মন্ত্রী সভার বিদ্যুৎ মন্ত্রী মৃনাল বন্দ্যোপাধ্যায়।  মূলত শ্রমিক সংগঠনের জোরেই দুর্গাপুরকে নিজেদের দুর্গ বানিয়েছিল সিপিএম। ২০১১ সালে এই আসনে শেষ বার সিপিএম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেছিল। ৭৭ হাজার ভোট পেলেই সিপিএম প্রার্থী পরাজিত হন। তারপর জোট ধর্ম পালন করতে গিয়ে ২০১৬ ও ২০২১ সালে এই আসন ছাড়তে হয় কংগ্রেসকে। ২০১৬ সালেও জোট প্রার্থী জয়ী হয়। কিন্ত ২০২১ সালে ৪৭ শতাংশ ভোট খুইয়ে বাম কংগ্রেস জোট প্রার্থী মাত্র ১৮ হাজার ভোট পান। তাঁদের ভোটের সিংহভাগ থাবা বসায় বিজেপি। রামে যাওয়া বামেদের সেই ভোট ফেরাতেই প্রভাসের ভরসা ভূমিপুত্র ইমেজ। 

    এই আসনে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এডিডিএ চেয়ারম্যান প্রভাবশালী ব্যবসায়ী কবি দত্ত, বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন বিদায়ী বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তাঁদের বর্ণাঢ্য প্রচারের সঙ্গে টেক্কা দেওয়া সম্ভব নয় বুঝে নিবিড় জনসংযোগ করছেন প্রভাস। তিনি বলেন, আমার প্রচারে আড়ম্বর নেই, আন্তরিকতা আছে। রবিবার সন্ধ্যায় গুটি কয়েক কমরেডকে নিয়ে প্রচার করছিলেন প্রভাসবাবু। যদিও সোমবার বেনাচিতি বাজারের প্রচারে কমরেডদের ভিড় ও উৎসাহ দুই দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের মতো যাঁদের জমিতে শিল্পাঞ্চল দাঁড়িয়ে তাঁদের আজ দুর্গাপুরে কাজ নেই। ঘরের ছেলেমেয়েদের বাইরে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বন্ধ কারখানা খোলেনি বিজেপি। নতুন কারখানা আনতে পারেনি তৃণমূল। বিকল্প হিসাবে মানুষ আমাদেরই বেছে নেবে। প্রভাসবাবু দলের এরিয়া সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি সিটুর জেলা কমিটির সদস্য। 

    তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, বামেদের জঙ্গি আন্দোলনের জেরেই দুর্গাপুরের রুগ্ন দশা। ওঁরা কার কোনদিন ক্ষমতায় ফিরবে না। বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত বলেন, দুর্গাপুর থেকে বামেদের অস্বস্তি মুছে গিয়েছে। ওরা ভোট ভাগাভাগি করে তৃণমূলকে সুবিধা দিতে চাইছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)