রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: বড়জোড়ায় গত পাঁচ বছরে বিধায়কের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় ৮৭টি প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। বড়জোড়ার বেশিরভাগ বুথেই উন্নয়ন হয়েছে বলে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন। তবে অলোকবাবুকে এবার দল টিকিট দেয়নি। বড়জোড়ায় ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী হয়েছেন গৌতম মিশ্র। গত পাঁচ বছরের উন্নয়ন ঘাসফুল শিবিরকে বড়জোড়ায় ডিভিডেন্ড দেবে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে।
অলোকবাবু বলেন, আমি গত পাঁচবছর মানুষের সেবায় কাজ করেছি। প্রথমদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে উন্নয়নমূলক কাজে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। পরে বিধানসভা এলাকাজুড়ে পুরোদমে কাজ হয়। প্রতিটি বুথে কমবেশি কাজ হয়েছে। আমাদের দলের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে গিয়ে গত পাঁচ বছরে বিধায়ক কোটার টাকায় হওয়া উন্নয়নের তালিকা আমরা তুলে ধরছি। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পাঁচালির কথাও ভোটারদের সামনে বলছি।
যদিও বিজেপির বিষ্ণুপুর জেলার সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, তৃণমূল বিধায়ক এলাকায় কিছু উন্নয়ন করতে পারেননি। তাই তাঁকে এবার টিকিট দেয়নি। বিজেপি জিতলে বড়জোড়াবাসী আসল উন্নয়নের স্বাদ পাবেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অলোকবাবু এলাকা উন্নয়ন খাতে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। তারমধ্যে ৩ কোটি ২৯ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা তিনি খরচ করেছেন। ওই টাকায় বড়জোড়া বিধানসভা এলাকায় ৮৭টি প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। তারমধ্যে হাইমাস্ট আলো, কমিউনিটি হল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য মুক্তমঞ্চ, শ্মশানে শেড, রাস্তা, নিকাশি নালা, পথবাতি সহ অন্যান্য কাজ হয়েছে। বছরভর ওইসব উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তার সুফল এলাকাবাসী বর্তমানে পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নির্বাচনে বাঁকুড়ার যে গুটিকয় আসনে বাম-কংগ্রেস জোট জয় পেয়েছিল, তারমধ্যে বড়জোড়া অন্যতম। তার আগে অবশ্য আসনটি ঘাসফুল শিবিরের দখলেই ছিল। ২০২১ সালে তৃণমূল ওই আসনটি পুনরুদ্ধার করে। অলোকবাবুকে প্রার্থী করে শাসক দল বাজিমাত করেছিল।
এবার বড়জোড়া আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূলের পাশাপাশি বড়জোড়ায় বিজেপি ও সিপিএমের মজবুত সংগঠন রয়েছে। ওই দুই দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগের জবাবে উন্নয়নকে হাতিয়ার করে তৃণমূল ভোটের লড়াইয়ে নেমেছে। রাজ্য সরকারের পরিষেবা নিয়েও গ্রামে গ্রামে তৃণমূল প্রচার চালাচ্ছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্যের পাশাপাশি বিধায়কের এলাকা উন্নয়ন নিয়েও চলছে প্রচার। তবে বড়জোড়ার হাতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও বড়জোড়াকে যানজটমুক্ত না করতে পারার বিষয়টি তৃণমূলকে কিছুটা বিপাকে ফেলেছে। দামোদর নদের উপর বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমানের মধ্যে সংযোগকারী দুর্গাপুর ব্যারেজের বিকল্প সেতুও গড়ে তোলা যায়নি। এব্যাপারে অলোকবাবু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বনমন্ত্রীকে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বড়জোড়াবাসী ফের আমাদের আশীর্বাদ করলে আগামী দিনে ওইসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।