• নিরাপত্তা নিয়ে গেরোয় বাদ যাওয়া ভোটারদের নাম তুলতে নাজেহাল
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট : সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পত্র তোলা ও জমার কাজ। সে কারণে এদিন সকাল থেকেই রামপুরহাট মহকুমা শাসকের অফিস চত্বর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে পুলিশ। জারি হয় বিএনএস আইনের ১৬৩ নম্বর ধারা। নিরাপত্তার ব্যাপক কড়াকড়ি ছিল। কাঠ ফাটা রোদ উপেক্ষা করে দূরদূরান্ত থেকে আসা এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের নাকাল হতে হল। অফিসে তাঁদের ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। যা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন সেই মানুষগুলি। 

    রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রথম পর্বের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। এদিন থেকে প্রার্থীদের মনোনয়ন তোলা ও জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল। তারপর সেগুলির যাচাই চলবে। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল।

    এদিকে মনোনয়ন পর্ব ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রামপুরহাট মহকুমা শাসকের অফিস চত্বর। অফিসের সামনের ব্যস্ততম ব্যাংক রোডের দু’ধারে বাঁশ দিয়ে গেট ও ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। অফিসের মূল গেটের সামনে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন হয়। অফিস ও নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কর্মী ছাড়া বাকিদের ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ। 

    কমিশনের প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়া বহু ভোটার আবেদন করার জন্য সকাল থেকেই এদিন হাজির হন এসডিও অফিসের সামনে। কেউ কেউ রাস্তার ব্যারিকেডে থাকা পুলিশ কর্মীদের ‘ম্যানেজ’ করে এসডিও অফিসের গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেও তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের অনেকেই। হাসন বিধানসভার গোকুলপুর প্রাথমিক স্কুলের ৭৭ নম্বর বুথের ভোটার পলি বিবি। উনি বিচারাধীন ছিলেন। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদিন সকালেই পলি বিবি তিন বছরের শিশুকন্যা কোলে এসডিও অফিস খোলার অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বলেন, আমার নাম তালিকায় বাদ পড়ায় এসডিও অফিসে আবেদন করতে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ ঢুকতে বাধা দিয়েছে। এসআইআরের কাগজ দেখালেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। 

    আবার রামপুরহাটের বিনোদপুরের বাসিন্দা ভুটু শেখের অভিযোগ, আমার নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি, অনলাইনে আবেদনের ফর্ম মিলবে। অফলাইনে এসডিও অফিসে আবেদন করা যাবে। কিন্তু কমিশনের ওয়েবসাইটে আবেদনের ফর্ম নেই। তাই অফলাইনে আবেদন করতে এসেছি। কিন্তু পুলিশ ঢুকতে দিচ্ছে না। 

    এনিয়ে জটলা হতেই রামপুরহাটের এসডিপিও গোবিন্দ সিকদার ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, যাঁরা এসআইআরের ফর্ম নিতে বা জমা করতে এসেছেন তাঁরা বিকেল চারটের পর আসবেন। অগত্যা রোদ, গরমে সেই ফের অপেক্ষা।  কেউ আবার অন্যদিন আসবেন বলে ফিরে যান। যদিও রির্টানিং অফিসার তথা রামপুরহাট মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর বলেন, মনোনয়নের জন্য ১৬৩ ধারা জারি থাকে। আইন হিসাবে এই সময় বাইরের কাউকেই ঢুকতে দেওয়া যাবে না। 
  • Link to this news (বর্তমান)