তিন দশক পর বিধানসভা ভোটে অধীর রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন নাকি ‘সন্ন্যাস’, জল্পনা
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
অভিষেক পাল, বহরমপুর: বিধানসভায় প্রথম ঢুকেই তুখোড় বক্তা হিসেবে নাম কুড়িয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। রাজ্যে বামশাসন তখন মধ্যগগনে। শোনা যায়, বিধানসভার ভিতরে অধীরের ইংরেজিতে বক্তব্য শুনে প্রশংসা করেছিলেন স্বয়ং জ্যোতি বসুও। তিন দশক পর সেই অধীর ফের বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে। সন্দেহ নেই, জিতলে সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রত্যাবর্তন। আর হেরে গেলে? এই প্রশ্নে এখন তোলপাড় গোটা বহরমপুর। রাজনীতির কারবারিরা অবশ্য মনে করছেন, পরাজিত হলে অধীর হয়তো ম্যারাথন রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেবেন। সবকিছুর জবাব মিলবে আগামী ৪ মে।
সত্তর দশকে নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে গিয়েছিলেন অধীর। জীবন হয়ে পড়ে টালমাটাল। থিতু হয় রাজীব গান্ধীর আমলে। তাঁর হাত ধরেই কংগ্রেসে যোগ। ১৯৯১ সালে নবগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রথম বিধানসভা ভোটে লড়েন তিনি। ভোটের দিন বেরিয়ে ৩০০ জন সিপিএম কর্মীর হামলার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কোনওমতে প্রাণ হাতে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। হেরে যান ভোটেও। ১৯৯৬ সাল। ফের নবগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর। ২০ হাজারের বেশি ব্যবধানে বিধানসভায় পা রাখেন তিনি। এরপর আর রাজনৈতিক জীবনে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি অধীরকে।
১৯৯৯ সাল। দল ডাকাবুকো অধীরকে প্রার্থী করে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে। প্রথমবারই বাজিমাত। জয়লাভ করে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ। টানা ২৫ বছর একই আসনে সাংসদ। হয়েছেন মন্ত্রী, বিরোধী দলনেতাও। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলা রাজনীতিতেও তিনি হয়ে ওঠে অবিসংবাদী কংগ্রেস নেতা। সামলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদও। রাজ্যে পালাবদলের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ে তাঁর সংগঠন। ঘনিষ্ঠ নেতারা দল বদল করে চলে যান শাসক শিবিরে। এখন তাঁদের বিরুদ্ধেই অধীরকে লড়তে হবে রাজনীতির ময়দানে। এবং সেই লড়াই অবশ্যই টিকে থাকার। একদা তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সঙ্গীই প্রতিপক্ষ। তাঁদের একজন সুব্রত মৈত্র। তিনি বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক। এবারও প্রার্থী। অন্যজন, নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তিনি। তাঁকেই এবার বহরমপুরে বাজি ধরেছে তৃণমূল। ফলত, লড়াই হচ্ছে ত্রিমুখী এবং হাড্ডাহাড্ডি।
প্রার্থী হতেই তছনছ হয়ে যাওয়া সাজানো বাগান নতুন করে সাজাতে শুরু করেছেন অধীর। রবিবার রাতেই দিল্লি থেকে ফিরেছেন। সোমবারই গোরাবাজারে নিজের বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক সারেন। দুপুরে পার্টি অফিসে অন্যান্য বিধানসভার কর্মী এবং সদস্যদের সঙ্গে ঘরোয় আলোচনায় বসেন। অনেকদিন পর দলীয় কর্মীরা দেখলেন তাঁদের চেনা অধীর দাকে।
ব্যস্ততার ফাঁকে অধীর এদিন বলছিলেন, ‘পার্টি মনে করেছে, কংগ্রেসের জন্য এই সময় সিনিয়রদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। আমি পার্টির অনুগত সৈনিক হিসেবে প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। বহরমপুরের মানুষ, মুর্শিদাবাদের মানুষ সবাই জানেন, আমি তাঁদেরকে ভালোবাসি। বিধানসভায় আমি গোটা মুর্শিদাবাদের জেলার আওয়াজ হতে চাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চাই। মানুষের অধিকারকে সুনিশ্চিত করতে চাই। এটাই আমার লড়াই। দু’বছর আমার এই কাজে ছেদ পড়েছিল। মানুষ যদি আমাকে নির্বাচিত করে, আবার সেই লড়াইয়ে ফিরব।’
বিজেপি প্রার্থী সুব্রতবাবু বলেন, ‘এখানে আমি কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছি না। আপনাদের কথায় কংগ্রেসের প্রার্থী হেভিওয়েট। পাঁচবারের সাংসদ, রেলমন্ত্রী, পিএসসি সদস্য ছিলেন উনি। তারপর সার্বিকভাবে বহরমপুর শহরের জন্য তিনি কি রূপদান করেছেন?’