বিজেপি জিতলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে, কথা বলতে দেবে না, পাঁশকুড়ার সভায় গেরুয়া শিবিরকে তোপ মমতার
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাঁশকুড়া: দুই মেদিনীপুরের একাধিক জায়গায় কারখানা গড়ে উঠছে। তাতে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সোমবার পাঁশকুড়ার জয়কৃষ্ণপুরে নির্বাচনি সভায় যোগ দিয়ে দুই মেদিনীপুরে শিল্পায়নে বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তাজপুর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে। ডানকুনি-হলদিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর হচ্ছে। এছাড়া, খড়্গপুরের পাশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। শালবনীতে দু’টো পাওয়ার প্ল্যান্ট। গড়বেতায় সোলার প্ল্যান্ট। একটার পর একটা ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠছে। বিজনেসের রমরমা অবস্থা। তাতে যুবকরা কাজের সুযোগ পাবেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যুবসাথীদের জীবিকার সন্ধান করে দেব। মাসিক ১৫০০ টাকা ওদের পকেট খরচা। ছেলেমেয়েরা মাধ্যমিক পাশ করে কলেজে গেলে কিছু কেনার ইচ্ছা হয়। সেই টাকার জন্য যাতে কারও কাছে হাত পাততে না হয় সেজন্য যুবসাথী স্কিম করা হয়েছে। এটাকে ভিক্ষা কিংবা ভাতা ভাবাটা ঠিক নয়। বিজেপি নগ্ন ভাষায় কথা বলে। আমরা সৌজন্যের ভাষায় কথা বলি। যুবসাথী নিয়ে এভাবে অসম্মানজনক শব্দ প্রয়োগ ঠিক নয়।
মুখ্যমন্ত্রী এদিনের সভায় আরও বলেন, পাঁশকুড়া ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রচুর ফুলের চাষ হয়। সেই ফুলচাষি ও পানচাষিদের সুবিধার জন্য রেলমন্ত্রী থাকাকালীন একটা বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিলাম। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ওই বিশেষ ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে। পাঁশকুড়া গ্রামীণে নতুন কলেজ করে দিয়েছি। তিন কোটি টাকা খরচ করে পাঁশকুড়া শহরে ইন্টিগ্রেটেড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল তৈরি হয়েছে। সংখ্যালঘুদের হস্টেল হয়েছে। প্রচুর রাস্তাঘাট হয়েছে। পাঁচশো কোটি টাকা খরচে পানীয় জল প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করার জন্য আমরা দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়েছি। সেই কাজ সম্পূর্ণ হলে পাঁশকুড়া এলাকাতেও অনেকটাই সুবিধা হবে।
এদিন পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সিরাজ খানের সমর্থনে ওই সভা ছিল। সেই সভায় তমলুকের বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র, জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়, জেলা কমিটির চেয়ারপার্সন অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়, পাঁশকুড়া পুরসভার প্রাক্তন পুরসভার চেয়ারম্যান নন্দ মিশ্র, শহর সভাপতি শেখ সামিরুদ্দিন সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সিরাজ খানকে জেতানোর জন্য হিন্দু-মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজেপি একটা সিটে জিতলে সেখানে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। মাংস খাওয়া বন্ধ করবে। আপনার কথা বলা বন্ধ করবে। বাইরে কাজ করতে গেলে হোটেলে থাকতে দেবে না।
সিরাজ খানের সমর্থনে দলীয় নেতৃত্বকেও একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই জেলা মাতঙ্গিনী হাজরা, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল, সতীশচন্দ্র সামন্তের জন্য আমরা গর্বিত। এই জেলা সংস্কৃতির জেলা। এই জেলা সম্প্রীতির জেলা। এই জেলা স্বাধীনতার জেলা। এই জেলার জাগরণের জেলা। সবাইকে নিয়ে চলার জেলা। আমরা সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। অপরদিকে, বিজেপি ভেদাভেদ করে। আমরা গত ছ’ মাসের মধ্যে ৩০ লক্ষ কাঁচাবাড়িকে পাকা করার জন্য টাকা দিয়েছি। আগামী দিনে যত কাঁচাবাড়ি আছে সব পাকা করে দেব। এটা আমাদের অঙ্গীকার। আমাদের সরকার এলে প্রত্যেক পরিবারে পানীয় জল পৌঁছে দেব। এক কোটি পরিবারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি পরিবারেও পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে।