কৃষ্ণনগর উত্তরে এখনও প্রার্থী দিতে পারল না বিজেপি, ‘গড়’ নিয়ে হতাশ নীচুতলার কর্মীরা
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা বিজেপির গড়ে পরিণত হয়েছে। সেবার এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি ৫৩ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিল। তারপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী মুকুল রায় ৩৫ হাজার ভোটে জয়ী হন। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফের এই কেন্দ্রে বিজেপি ৫৩ হাজার ভোটেই তৃণমূলের থেকে এগিয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই বিগত সাত বছরে নদীয়া জেলার এই কেন্দ্রে গেরুয়া দুর্গে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিজেপির তিন দফার প্রার্থী তালিকাতেও কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার নাম না থাকায় কিছুটা হতবাক হয়েছেন পদ্ম শিবিরের নীচুতলার কর্মীরা। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর ‘সন্ধান চাই’ বলেও ট্রোল করছেন। শক্ত ঘাঁটিতেই প্রার্থী ঘোষণায় এতো গড়িমসি কেন? প্রশ্ন উঠছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই। যেখানে তৃণমূল, সিপিএম প্রার্থী চুটিয়ে প্রচার সারছেন সেখানেই ভোট ময়দান থেকে কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে বিজেপি।
অন্যদিকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা প্রচার সারছেন ঘাসফুল শিবিরের নতুন মুখ অভিনব ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মহলের দাবি, তৃণমূল প্রার্থী ভোট ঘোষণা হতেই প্রতি এলাকায় প্রচার শুরু করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনী লড়াইয়ে অনেকটাই বেশি এগিয়ে থাকবেন। সেদিক থেকে বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় ভোটযুদ্ধে কিছুটা দিগভ্রষ্ট হয়ে পড়েছেন নীচুতলার কর্মীরা। সোমবার সকালে পোড়াগাছা পঞ্চায়েতের অন্নপূর্ণা বারোয়ারি, সুকান্ত পল্লি, সন্ধ্যা মাঠপাড়া সহ ভীমপুর বাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার সারেন। বিকেলের দিকে, শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার করেন তৃণমূল প্রার্থী অভিনব ভট্টাচার্য। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের যুব সভাপতি অয়ন দত্ত বলেন, বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করতে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু বিরোধী দল নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় মানুষ এবার পদ্মফুল সরিয়ে ঘাসফুল ফোটাতে চাইছে। আমাদের দলের প্রার্থী প্রতিটা মানুষের কাছে পোঁছে যাচ্ছেন। উত্তর কেন্দ্রের মানুষ এবার বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং তৃণমূলের উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবেন।
রাজনৈতিক মহলের কথায়, একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও ছবিটা অনেকটা একইরকম ছিল। তৃণমূল প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে চুটিয়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী মুকুল রায় হাতে গুনে কয়েকবার কৃষ্ণনগরের প্রচারে এসেছিলেন। কিন্তু তারপরেও ভোটের ফলাফলে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। সেই ধারা এবার বদলায় কি না, সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে সিপিএম প্রার্থী বর্ষীয়ান বাম নেতা অদ্বৈত বিশ্বাস ভীমপুর এলাকাতেই প্রচার সারেন।
উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভাতেও এসআইআরের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। খসড়া এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকাতেই ১৬ হাজার ৪০০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। এই কেন্দ্রে বিচারাধীন ভোটার ছিল ১২ হাজার ৪০০। কিন্তু তৃতীয় তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা যায় ৯ হাজার ৯৫০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে নাম উঠেছে মাত্র ৮৮০ জনের। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ জন ভোটারের ভবিষ্যত ঝুলে আছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, নাম বাদের সংখ্যা দশ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার ভোটার কমতে চলেছে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় তৃণমূলের আশা ছেড়ে দেওয়াই ভালো। কারণ এই কেন্দ্রে ভোট ঘোষণার দিনই ফলাফল চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। প্রার্থীও খুব শিগগিরই ঘোষণা করবেন নেতৃত্ব।