কল্যাণী পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য তৃণমূলের, প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় চাপে বিজেপি
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
সংবাদদাতা, কল্যাণী: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কল্যাণীতে জোরদার প্রচার শুরু হয়েছে। এই কেন্দ্র পুনরুদ্ধারকে পাখির চোখ করে ইতিমধ্যেই প্রচারে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে কল্যাণীতে বিজেপি নামমাত্র ভোটে জিতেছিল। সেই হারানো জমি ফেরাতেই শাসকদল আদা-জল খেয়ে নেমেছে। বিশেষ করে এসআইআরকে সামনে রেখে সেই লড়াই আরও তীব্র করেছে তারা। মতুয়া প্রধান বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। একেই হাতিয়ার করেছে তৃণমূল।
কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান অরূপ মুখোপাধ্যায় বলেন, মানুষ গত পাঁচ বছর ধরে দেখছেন, বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদরা তাঁদের তহবিলের টাকা কিছুই খরচ করতে পারেননি। পাশাপাশি ৭ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে বিধায়ক সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটতে উদ্যত হয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করবেন।
এখনও পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হওয়ায় কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে বিজেপি। প্রচারের জন্য দেওয়াল দখল করে রাখলেও প্রার্থীর নাম লিখতে পারছেন না তাঁরা। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই অর্থে প্রচারও শুরু করেনি বিজেপি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সংগঠনের অন্দরে চাপ বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। সোমবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য দপ্তরে বিক্ষোভের ঘটনাও সামনে এসেছে। কল্যাণীর বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়কে প্রার্থী না করার দাবিতে দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ সেখানে বিক্ষোভ দেখান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়েছে। এ বিষয়ে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় বলেন, কল্যাণী বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। দল যাঁকে প্রার্থী করবে, তিনি বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় এই কেন্দ্র বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। পরবর্তীকালে তৃণমূলের দখলে আসে। তবে ২০২১ সালে কেন্দ্রটি দখল করে বিজেপি। এরপর থেকেই এলাকায় নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে গেরুয়া শিবির। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ ও ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে ছিল। বিশেষ করে কল্যাণীতে প্রায় ৯ হাজার ভোটে লিড পেয়েছিল তারা। ফলে এবারের লড়াই যে যথেষ্ট কঠিন হতে চলেছে, তা মানছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিকে, এই পরিস্থিতিতে প্রচারের ময়দানে এগিয়ে রয়েছে সিপিএম। তাদের প্রার্থী ইতিমধ্যেই এলাকায় প্রচার শুরু করে দিয়েছেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করছেন। সব মিলিয়ে তৃণমূলের আগাম প্রস্তুতি, বিজেপির অন্দরের টানাপোড়েন এবং সিপিএমের সক্রিয় প্রচার— ক্রমশ উত্তাপ বাড়াচ্ছে ভোটের।