নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে হাইটেক প্রচারের মাঝে বনগাঁর বাগদায় অন্য গল্প। তৃণমূল এখানে ছড়া, গান আর মানুষের আবেগকে ভর করে প্রচার করছে। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর নাম মধুপর্ণা ঠাকুর। তাঁর সমর্থনে দলের কর্মীরা খালি গলায় গান গেয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
ছন্দ মিলিয়ে বলা হচ্ছে ছড়া। প্রচারের প্রধান হাতিয়ার এই সবই। শুরুতে প্রার্থীকে ঘিরে সুর করে গাওয়া হচ্ছে ‘জল, বন্যা, দুর্যোগেতে কে আছে পাশে, ভয় নাই ভয় নাই মধুপর্ণা ঠাকুর আছেন...’ বা সুরেলা কণ্ঠে গাওয়া গান, ‘মমতাদি ও অভিষেকদা পাশে আছেন, বলো আমাদের ভয় কি আছে...’ এই প্রচার সুর ছড়ালে তালে তালে মাথা নাড়ছে জনগণ। তবে বিজেপি ও সিপিএম দুই বিরোধী দল বিরোধিতার কারণেই তাল কাটছে। লাগাতার কটাক্ষও ছুড়ছে। তবে ফেসবুক লাইভ, ইনস্টাগ্রাম রিল, ড্রোন থেকে তোলা ভিডিও ইত্যাদির বাইরে বেরিয়ে যে মেঠো পদ্ধতি নিয়েছে বাগদা, প্রচারে তা অন্য মাত্রা যোগ করেছে বলে বক্তব্য অনেকের।
একসময় বামেদের দখলে ছিল বাগদা। পরবর্তীকালে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে উঠে আসে। তবে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে সব সমীকরণ ভেঙে জয়ী হয় তৃণমূল। মধুপর্ণা ঠাকুর জিতে আসেন। এই বিধানসভা আসন মতুয়া অধ্যুষিত। সেই কেন্দ্রে ঠাকুরবাড়ির প্রতিনিধি হিসেবে মধুপর্ণার প্রতি বাড়তি ভালোবাসা আছে মানুষের। ভোটারদের একাংশের বক্তব্য, বিধায়ক হওয়ার পর এলাকার প্রতি নিয়মিত নজর দিয়েছেন মধুপর্ণাদেবী। নিজের তহবিলের পাশাপাশি তাঁর মা মমতা ঠাকুরের সাংসদ তহবিলের টাকাতেও একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তৃণমূল কর্মীদের বক্তব্য, এই নির্বাচনে এসব কারণেই দল ভরসা রেখেছে মধুপর্ণার উপর। জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত এলাকা ধরে প্রতিদিন দু’বেলা বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন প্রার্থী। কর্মীদের কারও হাতেই কোনো ডিজিটাল যন্ত্র থাকছে না। তাঁরা গলা ছেড়ে গান গাইছেন। কবিতা বলছেন। বাগদার বেলেডাঙার বাসিন্দা বিমান বিশ্বাস ‘ভীম’ নামে পরিচিত। এই সনাতনী পদ্ধতিতে প্রচারের মূল কারিগর তিনিই। তাঁর লেখা ছড়া ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামগুলিতে। প্রার্থীকে বরণ করার সময় বা বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচারের সময় উঠে আসছে সরকারি প্রকল্পগুলির কথা। স্লোগান উঠছে, ‘এবার বলো জিতবে কে? মধুপর্না ঠাকুর ছাড়া আবার কে!’ মধুপর্ণাদেবী বলেন, ‘বিমানবাবু গান লিখেছেন। খুব ভালো হয়েছে। প্রচারে আরও বড়ো করে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছি। মানুষের কাছে এই লেখা অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তাঁরা গলাও মেলাচ্ছেন।’ কবি বিমান ওরফে ভীমের বক্তব্য, ‘মানুষ ভালোবাসছে। এটা বড়ো কথা।’ তবে প্রচারকে কটাক্ষ করেছেন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি বিকাশ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের দুর্নীতির শেষ নেই। কোনো কাজ হয়নি এত দিনে। মানুষের যন্ত্রণার শেষ নেই। তাই ওদের নিয়ে কথা বলা মানে ভুল। আমরা যদি তৃণমূলের দুর্নীতির পাঁচালি বলতে শুরু করি, শেষ হবে না।’