• রাজ্য নির্বাচন কমিশন: এবার সিইওর প্রস্তাবে বদলি তাঁরই দপ্তরের ৪ আধিকারিক
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের আবহে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিদের বদলির পালা জারি ছিল। এবার কোপ পড়ল খোদ কমিশনেরই দপ্তর সিইও অফিসে। রাজ্যের চার আধিকারিককে মুখ্য সিইও দপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এক ডেপুটি সিইওকে। জানা যাচ্ছে, রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালের চিঠির প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে নবান্ন।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বদলির করা হয়েছে ডেপুটি সিইও সুব্রত পালকে। তাঁর জায়গায় এসেছেন রাহুল নাথ। তাঁকে যুগ্ম সিইও করা হয়েছে। সুব্রত পালকে স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গেই সরানো হয়েছে নরেন্দ্রনাথ দত্ত (অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি) ও সুপ্রিয় দাস (অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি) ও জয়েন্ট সেক্রেটারি মিঠু সরকারকে। ১৯৯৮ ব্যাচের ডব্লুবিসিএস অফিসার নরেন্দ্রনাথ দত্তকে শ্রমদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব করে পাঠানো হয়েছে। ২০০০ ব্যাচের সুপ্রিয় দাসকে খাদ্য এবং প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব করে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা দুজনেই সিইও দপ্তরে অতিরিক্ত সচিব পদে ছিলেন। ২০০৪ ব্যাচের মিঠু দত্তকে সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের যুগ্মসচিব করে পাঠানো হল। তিনি রাজ্যের সিইও দপ্তরের যুগ্মসচিব ছিলেন। 

    ২০০৫ সালের ডব্লুবিসিএস অফিসার তথা ডেপুটি সিইও সুব্রত পালকে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সিনিয়র ডেপুটি সচিব করে পাঠানো হয়েছে। অন্য দিকে, ২০০১ ব্যাচের রাহুল নাথ ছিলেন স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব। তাঁকে যুগ্ম সিইও করে পাঠানো হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে সিইও অফিসে ডেপুটি সিইও পদ সামলাচ্ছিলেন সুব্রত। দক্ষ হাতে দুটি নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। এবারেও তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন জ্ঞানেশ কুমার স্বয়ং। তাও কেন এই আধিকারিককে সিইও সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব পাঠালেন, তা স্পষ্ট নয়। আরও জানা যাচ্ছে, রাজ্যে আসা ১০ পুলিশ পর্যবেক্ষককে বদলি করা হচ্ছে। তাঁদের জায়গায় অন্য পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হবে। 

    এদিকে, সোমবারই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিনের মধ্যে রাজ্যের বিডিও এবং বিভিন্ন থানা ওসি-সহ ২৬৭ জন আধিকারিককে অপসারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। তার বিরুদ্ধে এই মামলা। রবিবারও রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনে একঝাঁক রদবদল করেছে কমিশন। দ্রুত শুনানির আরজি জানানো হয়েছে। 

    অন্যদিকে, তালিকায় এখনো নাম না-থাকায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখ। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম উচ্চ আদালতকে জানিয়েছেন, প্রার্থী হিসাবে তাঁর মক্কেলের নাম ঘোষণা সত্ত্বেও এসআইআর তালিকায় নাম না-থাকায় নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের পর্যবেক্ষণ, এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের অধীনস্থ। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, হাইকোর্ট এনিয়ে শুনানি করতে পারে না।
  • Link to this news (বর্তমান)