• কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাদুড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক, গুরুত্ব দিচ্ছে না ঘাসফুল শিবির
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: জল্পনার অবসান। বাদুড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক কাজি আব্দুর রহিম ওরফে দিলু দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। ২০২১ সালের আগেও তিনি কংগ্রেসে ছিলেন। যদিও তাঁর দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন রহিম। এলাকার কোনো কাজ করছিলেন না। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আছে। 

    কংগ্রেসে যোগদানের পর কাজি আব্দুর রহিম দাবি করেন, ২০২১ সালে বিজেপিকে রুখতে তৃণমূল কংগ্রেসের অনুরোধে কংগ্রেস ছেড়ে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে উপলব্ধি করেন তিনি সেই দলের উপযুক্ত নন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে কথা উল্লেখ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। এদিন তা বাস্তবায়িত হল। তাঁর কথায়, আমার লড়াই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির পক্ষে।

    প্রসঙ্গত, তাঁর পিতা কাজি আব্দুল গফফার প্রায় ৫০ বছর ধরে বাদুড়িয়ায় কংগ্রেস রাজনীতিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন সাতবারের বিধায়ক এবং এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা। তবে কাজি আব্দুর রহিমের কংগ্রেসে যোগদানের পর এলাকায় তেমন উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে তিনি সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। মানুষের কাজে তেমনভাবে এগিয়ে আসেননি। অন্যদিকে, কাজি আব্দুর রহিমের অভিযোগ, তৃণমূলের কিছু নেতা তাঁকে কার্যত ‘চাপা’ দিয়ে রেখেছিলেন। ফলে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারেননি। স্থানীয় প্রবীণ তৃণমূল নেতা গৌতম গুপ্ত বলেন, তিনি যদি এই দলের উপযুক্ত না হন, তাহলে ২০২১ সালে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ তাঁকে ভোট দিয়েছিলেন—তাঁদের জন্য তিনি কী করেছেন? যুব তৃণমূল নেতা সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যর দাবি, ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি সম্পূর্ণভাবে এলাকার মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর ভাই কাজি আব্দুর রশিদকে আইএসএফ ও বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করানো হয়েছিল।

    কংগ্রেস ইতিমধ্যে ২৮৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি রয়েছে ১০টি আসন, যার মধ্যে বাদুড়িয়াও রয়েছে। সূত্রের খবর, ওই আসন থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে লড়তে পারেন আব্দুর রহিম।
  • Link to this news (বর্তমান)