২৪ সেতু বিদ্যুতের সব তার ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’, টালিগঞ্জের চেহারা বদলে নির্বাচনের ময়দানে অরূপ
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
অর্ক দে, কলকাতা: টালিগঞ্জের নতুন বাজার ঢালাই ব্রিজ। বেহালা ও টালিগঞ্জের সংযোগস্থল বলা চলে। কয়েক সপ্তাহ আগে নতুন বাজার খালের উপর চালু হয়েছে প্রশস্ত ঢালাই সেতু। ঝকঝকে ব্রিজের পথে আঁকা আলপনা এখনও ফিকে হয়নি। ব্যস্ত জনপদ। পাশেই মুদি দোকান রতন বণিকের। তিনি বললেন, ‘এই সেতু হওয়ায় এলাকার চেহারাই পালটে গিয়েছে। খাল পারাপারে সমস্যা হত। কোথাও কোথাও আগে ছোটো সেতু ছিল। একটা রিকশ গেলে আর কোনো যান যেতে পারত না। এখন সব জায়গায় প্রশস্ত ব্রিজ। বড় গাড়িও যাতায়াত করতে পারছে।’ মাঝবয়সি রতনবাবুর বক্তব্যের প্রতিফলন টালিগঞ্জজুড়ে। কারণ, শুধু এই ব্রিজ নয়, গোটা টালিগঞ্জ অঞ্চলে বিভিন্ন খালের উপর গত ১০-১৫ বছরে এমন ২৪টি সেতু তৈরি হয়েছে। এলাকায় সার্বিকভাবে বেড়েছে যানবাহনের গতি। কমেছে নাগরিক দুর্ভোগ।
টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে কলকাতা পুরসভার ৯৪, ৯৫, ৯৭, ৯৮, ১০০, ১১১, ১১২, ১১৩ এবং ১১৪ নম্বর ওয়ার্ড। মূলত, ১১১, ১১২, ১১৩ ও ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার স্বার্থে এই ২৪টি ব্রিজ তৈরি করিয়েছেন বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। সেই সঙ্গে গোটা অঞ্চলে বিদ্যুতের যাবতীয় তার নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাটির নীচ দিয়ে। ফলে দৃশ্যদূষণ মুক্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। সব মিলিয়ে বিধায়ক তথা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের হাত ধরে এলাকার ভোল বদলে গিয়েছে বলেই জানাচ্ছেন সাধারণ বাসিন্দারা। আর এই উন্নয়নকে ‘অস্ত্র’ করেই ফের ভোট ময়দানে অবতীর্ণ অরূপ বিশ্বাস।
১৯৫০-৭০ সালের দিকে অম্বিকা চক্রবর্তী ও নিরঞ্জন সেনগুপ্তের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কেন্দ্র ছিল টালিগঞ্জ। পরবর্তীকালে বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি হয়ে ওঠে এই এলাকা। ৯০-এর দশকের শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থানের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বর্তমান বিধায়ক অরূপ। আর এলাকার ভোল বদল শুরু হয়েছে ২০১১ সালের পর থেকে। কামডহরি বিবেক ভারতী, বিধানপল্লি (গীতাঞ্জলী), ঊষা ব্রিজ, পালপাড়া ব্রিজ, কালীবাড়ি ব্রিজ, কালীবাড়ি বেইলি ব্রিজ, শান্তিনগর, কুঁদঘাট, পাম্প হাউসে ব্রিজ, তালিকাটা দীর্ঘ। টালিগঞ্জের ন’টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটি সিইএসসির আওতাভুক্ত। সেখানে আগে থেকেই বিদ্যুতের লাইন ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ ছিল। বাকি অংশেও এই কাজ হয়েছে। ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপ দাস বলেন, ‘বাঁশদ্রোণীতে নতুন পাওয়ার সাবস্টেশন হয়েছে। ১২,৬০০টি পুরানো কংক্রিটের বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে স্টিলের পোল বসানো হয়েছে।’
গতিশীল রাস্তা, উন্নত বিদ্যুৎ সরবরাহ, দমকল কেন্দ্র, পানীয় জল, নিকাশি থেকে শুরু করে শ্মশান, মন্দিরের উন্নয়ন—বহুমুখী উন্নয়নের তালিকা নিয়ে প্রচারে নেমে পড়েছেন অরূপ। নেতাজিনগরের বাসিন্দা সঞ্জীব সান্যাল বলছিলেন, ‘পুরানো ভাঙাচোরা বাঁশদ্রোণী বাজার এখন সেলফি স্পট!’ ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ মণ্ডলের কথায়, ‘একাধিক সেতু হওয়ায় আমরা যাঁরা আদি গঙ্গার এপারে রয়েছি, তাঁদের যাতায়াতে অনেক সহজ হয়েছে। শুধু আমার ওয়ার্ডেই ১২টি ব্রিজ রয়েছে।’
প্রচারে বেরিয়ে তাই মানুষের শুভেচ্ছায় ভাসছেন অরূপ। তাঁর কথায়, ‘টালিগঞ্জে কী কাজ হয়েছে, মানুষ জানেন। চোখের সামনে সেই উন্নয়ন দেখেই মানুষ ভোট দেবেন।’