লাগাতার পাড়া বৈঠক, ঘরে ঘরে পৌঁছানোই লক্ষ্য মীনাক্ষীর
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুরানো ধাঁচের বাম ঘরানার প্রচার। আড়ম্বরহীন, কিন্তু মন ছুঁয়ে যাওয়া। তাঁর জমকালো প্রচার চোখে না পড়লেও উত্তরপাড়ার সর্বত্র তাঁর উপস্থিতি প্রবলভাবে রয়েছে। সিপিএমের রাজ্যনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের প্রচারকে ঘিরে এমনই সব চর্চায় মুখর উত্তরপাড়ার রাজনীতি সচেতন মানুষ। সাবেক বাম জমানার ভোট প্রচারকে মনে করাচ্ছেন একালের তরুণী নেত্রী, এমনটাই বলছেন বাম ভাবধারায় বিশ্বাসী নন, এমন বাসিন্দারাও। গুটিকয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এপাড়া থেকে ওপাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন মীনাক্ষী। নেই আত্মপ্রচার, নেই জৌলুস, তবে যা আছে তা হল, প্রতিটি বাড়ির দোরগোড়া ছুঁয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। আছে পাড়া বৈঠকের পুরানো বাম ঘরানা। তৃণমূল স্তরের মানুষের সঙ্গে সেতুবন্ধনের মাধ্যমে তিনি শাসকদলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাটি তৈরি করছেন।
তাঁর ঘনিষ্ঠ বলয় বলছে, এটাই মীনাক্ষীর ঘরানা। অভিজাত থেকে প্রান্তিক— সকলের সঙ্গে মিশতে পারেন সহজে। এটাই তাঁর সহজাত প্রবণতা। এর সঙ্গে জুড়েছে ব্যক্তিগত সংগ্রামী জীবন আর বামপন্থার পাঠ। তাই উত্তরপাড়ার পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে রীতিমতো আসন পিঁড়ি হয়ে বসে সমস্যার কথা শোনেন। বলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। বারবার তাঁর কথায় উঠে আসে মানুষের বঞ্চনার কথা, কর্মসংস্থানের কথা। মেঠো ভঙ্গিতেই প্রচার করছেন প্রতিদিন। নেত্রী বলেন, বামপন্থীদের প্রচারের পথই আমার পথ। আমরা মানুষের কথা বলি, মানুষের পাশে থাকি। শুধু ভোট এলে মানুষের সঙ্গে কথা বলি না, সারা বছর জনসংযোগ করি। ভোট প্রচারের সঙ্গে জুড়ে থাকে আদর্শের বিস্তার। প্রতিটি পাড়ায় সুষ্ঠুভাবে নিজের ভাবনার কথা বলা দরকার। আমি সেটাই করি। দিনবদলের কথা বলি।
আজ, মঙ্গলবার তাঁর কর্মসূচিতে জ্বলজ্বল করছে দু’টি পাড়া বৈঠক, আর দু’টি ছোটো জমায়েত। ভোট প্রচারের তুঙ্গলগ্নে মাত্র চারটি কর্মসূচি? আসলে যেখানে যান, অনেকটা সময় নিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানেন, এলাম-দেখলাম- জয় করলামের সময় এখন নয়। তাই মাঠে পড়ে থাকেন। টি-২০ এর যুগেও তিনি ধ্রুপদী ঘরানার পরিশ্রমী ছাত্রী।