ভোট আসতেই অতিসক্রিয়তা, ইডি দপ্তরে টানা ৮ ঘণ্টা জেরা দেবাশিসকে
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট প্রচারের পারদ চড়ছে। শুরু হয়ে গিয়েছে মনোনয়ন পর্বও। এই অবস্থায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর ডাক পেলেন রাসবিহারীর বিধায়ক তথা এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমার। সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির কার্যালয়ে যান দেবাশিস। টানা প্রায় আট ঘণ্টা চলে জিজ্ঞাসাবাদ। বেরিয়ে এসে দেবাশিস সোজা চলে যান প্রচারে। ৮৪ নম্বর ওয়ার্ডের মনোহরপুকুর রোড সংলগ্ন এলাকায় জনসংযোগ সারেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া যখন পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে, তখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অতিসক্রিয়তা কেন, প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন মহল।
কেন এই আচমকা তলব? ইডি সূত্রে খবর, ২০১৬-২০ সালের মধ্যে কলকাতা সহ একাধিক জেলায় কয়েকশো একর জমি কেনে একটি সংস্থা। সেই কোম্পানির দুই কর্ণধার ওই জমিতে কোথাও বহুতল বানায়, কোথাও অন্যান্য ব্যবসা চালু করে। এরকমই একটি জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, জমিগুলি বাজারদরের থেকে অনেক কম দামে কেনা হয়। যাঁদের কাছ থেকে জমিগুলি কেনা হয়েছে, তাঁরা খাতায়-কলমে দেখিয়েছেন যে বিপুল পরিমাণ টাকা পেয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে সেই টাকা তাঁরা পাননি। সেই টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে এসেছে। কিন্তু অভিযোগ, তাঁদের মাথায় রীতিমতো বন্দুক ঠেকিয়ে সব টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁদের কম টাকা নগদ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আরও জানা যায়, এই জমির মধ্যে বেশ কিছু সরকারি জমে রয়েছে। অভিযোগ, এভাবেই সরকারি এবং ব্যক্তিগত জমি বেআইনিভাবে হাতানো হয়েছে। ইডি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি হয়। সেসব জায়গা থেকে বেশ কিছু ব্যাংক নথি বাজেয়াপ্ত হয়। ইডির দাবি, সেই নথিতে দেবাশিস কুমারের একটি ব্যাংক লেনদেনের তথ্য রয়েছে। সেই রহস্য উন্মোচন করতেই দেবাশিস কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ বলে ইডি সূত্রে খবর।
ভোটের মুখে ইডির এই তৎপরতায় স্বাভাবিকভাবেই সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল। দলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এবার ইডি একটু দেরিতে খেলা শুরু করল। ওরা কি বুঝে গিয়েছে যে বিজেপি এবারও বাংলা পাচ্ছে না? সেই জন্যই এই অতিসক্রিয়তা?’ কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন এভাবে ডেকে ‘হেনস্তা’ করা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল।