• যাদবপুর-বেহালা পশ্চিম সহ ৮ বিধানসভা, নির্ণায়ক মহিলা ভোটাররাই
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: যাদবপুর, টালিগঞ্জ সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্তত আট কেন্দ্রে মহিলা ভোটাররা প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। কারণ, এসব কেন্দ্রে পুরুষদের থেকে অনেকটা বেশি সংখ্যায় আছেন মহিলা ভোটার। যেমন, যাদবপুরে পুরুষদের চেয়ে ১১ হাজারের বেশি মহিলা ভোটারের নাম রয়েছে তালিকায়। টালিগঞ্জে পুরুষদের চেয়ে সাড়ে আট হাজারের বেশি মহিলা ভোটার আছেন। বেহালা পশ্চিমে সেই সংখ্যা ৯ হাজারের বেশি। সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণেও পুরুষদের টেক্কা দিয়েছে মহিলা ভোটারের সংখ্যা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন, তার ভিত্তিতেই এই তথ্য সামনে এসেছে। বাড়তি মহিলা ভোট কোন দলের পক্ষে যায়, এখন সেই হিসাবই কষছেন বিভিন্ন দলের ভোট ম্যানেজাররা। 

    এসআইআরে এই জেলায় বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তারপরও শহর ও শহরতলির বিধানসভায় মহিলা ভোটারদের সংখ্যায় বিরাট প্রভাব পড়েনি। বরং পুরুষ ভোটারদের সঙ্গে মহিলা ভোটারদের সংখ্যার এই ফারাক বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাদের দাবি, আগে দেখা গিয়েছে, মহিলা ভোটারদের একটা বড় অংশ শাসক দলের দিকেই ঝুঁকেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কিংবা কন্যাশ্রী প্রকল্পের মতো প্রকল্পের সুবিধা গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এবারও সেই ধারা বজায় থাকে কি না, নজর রাখছে সব দল।

    জানা গিয়েছে, আটটি বিধানসভার মধ্যে সবচেয়ে কম ফারাক আছে বারুইপুর পশ্চিমে। সেখানে পুরুষদের সঙ্গে মহিলা ভোটারের সংখ্যার ফারাক মাত্র ৬৬। এছাড়াও সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণে যথাক্রমে ১৮০০ এবং ৩১০০ সংখ্যক মহিলা ভোটার বেশি আছেন। কসবায় এই ফারাক প্রায় আড়াই হাজারের। এরপর আরও কিছু নাম উঠবে এসব বিধানসভায়। কারণ, অনেকের নাম ‘বিচারাধীন’ ছিল চূড়ান্ত তালিকায়।

    মহিলা ভোটার নিয়ে কী বলছে রাজনৈতিক দলগুলি? তৃণমূলের টালিগঞ্জ এবং যাদবপুর বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত বলেন, ‘নারী শক্তির প্রাধান্য আমাদের কাছে স্বস্তিদায়ক। তবে বহু কেন্দ্রে মহিলা ভোট কেটে দেওয়া হয়েছে। মহিলারাই ভোটের ফ্যাক্টর হবে।’ বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা সহ সভাপতি অবণী কুমার মণ্ডলের বক্তব্য, ‘মহিলা ভোট বাড়ুক বা কমুক, শহরে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তাছাড়া এবার যেহেতু নির্বাচন কমিশন যেভাবে শুধুমাত্র বৈধ ভোটারদের রেখে ভোট করানোর ব্যবস্থা করছে, তাতে মহিলা ভোট কোনো ফ্যাক্টর হবে না। বিশেষ করে তৃণমূলের লাভ কিছু হবে না।’ সোনারপুর দক্ষিণের সিপিএম নেতা অর্কদেব চট্টোপাধ্যায়ের যুক্তি, ‘প্রকল্পের নামে ভোট কিনছে তৃণমূল সরকার। কিন্তু নারী নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। মহিলারা এখন বুঝে গিয়েছে। তাঁরা ব্যালট বাক্সে জবাব দেবেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)