ট্রাইবুনালে গেলে দর্শাতেই হবে নাম বাদ যাওয়ার কারণ, তথ্য না দিয়ে তুঘলকি কমিশনের
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: দীর্ঘ টালবাহানার পর বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য ট্রাইবুনাল তৈরি হয়েছে। আর সোমবারই শুরু হয়েছে আবেদন গ্রহণের পর্ব। অথচ, সেই ‘আবেদনপত্র’ ঘিরেই সামনে আসছে কমিশনের নয়া তুঘলকি। ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে গেলে নির্দিষ্ট ফর্মে একাধিক তথ্য উল্লেখ করতে হচ্ছে ভোটারকে। তার মধ্যে একটি কলামে ভোটারকেই উল্লখে করতে হবে, তালিকা থেকে কেন তাঁর নাম বাদ গিয়েছে! এখানেই বিভ্রান্তি। কারণ, তালিকা থেকে বাদ গেলেও সংশ্লিষ্ট ভোটারকে তার কারণ কখনোই জানায়নি কমিশন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে এ যাবৎ যে ক’টি তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তার একটিতেও ভোটার বাদের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। উপরন্তু, এখন ট্রাইবুনালের আবেদনপত্রে ভোটারকে সেই তথ্যই লিখতে বলা হচ্ছে! এর জেরে ফের হয়রানির পর্ব শুরু হল ভোটারদের।
গত ডিসেম্বরে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। একমাত্র ওই তালিকাতেই নাম বাদের কারণের উল্লেখ ছিল। ওই পর্যায়ে যে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল, ভাগে ভাগে তার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। অর্থাৎ মৃত, স্থানান্তরিত, ইতিমধ্যেই অন্য কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত ইত্যাদি। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর যে ৬ লক্ষের মত ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তার কোনো কারণ উল্লেখ করেনি কমিশন। ফর্ম সাত-এর মাধ্যমে তাঁরা তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন বলে জানিয়েছিল কমিশন। আর পরবর্তীতে বিচারাধীন চারটি তালিকাতেও ভোটারের নাম বাদের কোনো কারণ আলাদা করে জানায়নি কমিশন। বিচারাধীন ভোটার বাদের তালিকায় শুধু উল্লেখ রয়েছে, ‘বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তার রায়ের পর নাম মুছে ফেলা হয়েছে’। অর্থাৎ কী কারণে ভোটার অয্যেগ্য প্রমাণিত হয়ে তালিকা থেকে বাদ পড়লেন, এবারও তার কোনো উল্লেখ নেই। এর মধ্যেই আবার প্রকাশিত হয়েছে পঞ্চম অতিরিক্ত তালিকা।
অথচ ট্রাইবুনালের আবেদনপত্রে সেই নাম বাদের কারণই জানাতে হবে ‘ডিলিটেড’ ভোটারকে। জানা যাচ্ছে, আবেদনের জন্য ভোটারকে প্রথমেই ফর্মে তাঁর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট এলাকায় বা বুথে (যেখান থেকে তাঁর নাম বাদ গিয়েছে) কতদিন ধরে থাকছেন, তার তথ্য এবং এপিক নম্বর লিখতে হবে ভোটারকে। ইআরও বা সংশ্লিষ্ট অফিসারের কত তারিখের নির্দেশে ওই ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তার তথ্যও দিতে হবে ভোটারকেই। আর এর পরের কলামেই তাঁকে উল্লেখ করতে হবে, কী কারণে নাম বাদ পড়ছে। যে গ্রাউন্ডে তাঁর নাম বাদ পড়েছে, তা কেন সঠিক নয়, তাও উল্লেখ করতে হবে ভোটারকে। আর এখানেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
ফর্ম জমা দেওয়ার প্রথম দিনই জেলায় জেলায় লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। একাধিক ভোটার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের প্রশ্ন করেছেন, ওই কলামে কী লিখতে হবে? কিন্তু সদুত্তর মিলছে না। অনেক আধিকারিকই আবেদনকারীদের ওই কলাম ‘ফাঁকা’ রাখতে বলছেন। বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, নাম বাদ পড়ার পরও মানুষকে কেন এত বিভ্রান্তির শিকার হতে হবে? এর পিছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নেই তো?