• সিইও অফিসে একগুচ্ছ ফর্ম-৬ জমা বিজেপির! বহিরাগত? ভিডিয়ো ফাঁস অভিষেকের
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম-৬ জমা। আর সেটাও সরাসরি সিইও অফিসে! বিজেপির এই ‘গা-জোয়ারি’ ঘিরে সোমবার তোলপাড় হল রাজ্য। ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ডিইও) তথা জেলাশাসকের দপ্তর এড়িয়ে সরাসরি সিইও অফিসে বিজেপির তরফে ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার বিষয়টিই এদিন বিকেলে ফাঁস করে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি বিএলএ-১’এর আবেদনপত্র এবং ব্যাগ, থলে এবং কার্ডবোর্ডের পেটি বোঝাই করে ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার ভিডিও এক্স-হ্যান্ডলে পোস্ট করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, ভিনরাজ্য, ঩বিশেষভাবে বিহার-উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের বাংলায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতেই বিজেপির এই তৎপরতা। প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম এদিন জমা পড়েছে সিইও অফিসে। ভোট প্রচার শেষে সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে অভিষেক সোজা চলে যান সিইও দপ্তরে। আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ—‘কারা এসেছিল, কী করতে এসেছিল, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করা হোক। কাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম-৬ জমা দেওয়া হল, সে তালিকা প্রকাশ করা হোক। আর কেনই বা নিয়ম বর্হিভূতভাবে ডিইও অফিসের পরিবর্তে সিইও দপ্তরে তা জমা দেওয়া হল, সেটাও রহস্যের।’ 

    এক্স-হ্যান্ডলে অভিষেকের পোস্টের ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম-৬ জমা দিচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। সিইও দপ্তরের রিসিভিং সেকশনের মেঝেতে বান্ডিল বান্ডিল করে তা রাখা হচ্ছে। অভিষেকের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরই এদিন একজন ডেপুটি সিইও সহ  চারজন আধিকারিককে বদলি করা হয়। পোস্ট প্রকাশ্যের আসার সঙ্গে এই বদলি ‘সম্পর্কিত’ কি না, তা জানা যায়নি। অভিষেক জানিয়েছেন, ‘৩০ হাজার ফর্ম জমা পড়েছে বলে আমার কাছে খবর আছে।’ তবে সিইও অফিস জানিয়েছে, অত নয়, ৮-১০ হাজার ফর্ম জমা পড়েছে। ভোটযুদ্ধে তৃণমূলের সেনাপতি বলেন, ‘তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, ১০ হাজার ফর্ম জমা পড়েছে। এগুলি সবই উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, বারাকপুর ও রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। যাঁদের নামের ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে, তাঁরা সবাই বিহারের ভোটার। এই পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিটি বুথে বহিরাগত ৪০-৫০ জনকে ঢুকিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছে।’ অভিষেকের হুমকি, ‘দলের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেবেন। যাঁদের সঙ্গে বাংলার যোগ নেই, এখানে থাকেন না, এমন বহিরাগতদের প্রতিরোধ করা হবে ভোটের দিন। আমার মাটি সইবে না, বিহার-ইউপি হইবে না।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)