• পানিহাটিতে রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠক, ওয়ার্ড ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন, ভোটের লক্ষ্যে পদক্ষেপ তৃণমূলের
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নানা কারণে এবার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটযুদ্ধ বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে। উত্তর শহরতলির এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসাবেই পরিচিত। কিন্তু এবার এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন আর জি কর-কাণ্ডে নিহত চিকিৎসক ছাত্রীর মা। তাই এই কেন্দ্রের ভোট নিয়ে এবার আরও সতর্ক তৃণমূল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সোমবার পানিহাটিতে একটি বৈঠক হয় তৃণমূলের। সেখানে বুথভিত্তিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়। 

    পানিহাটিতে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন এখানকার পাঁচবারের বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। সিপিএম এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে আর জি করের ঘটনা নিয়ে আন্দোলনে নেমে গ্রেপ্তার হওয়া কলতান দাশগুপ্তকে। ত্রিমুখী লড়াইয়ের কৌশল সাজাতে ব্যস্ত দলগুলি। আর জি করের নির্যাতিতার মা প্রার্থী হওয়ায় রাজ্যের শাসক দলের কাছে এবারের লড়াই কিছুটা হলেও কঠিন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের ইস্যুতে উন্নয়ন-অনুন্নয়নের থেকেও নারী নিরাপত্তা এবং আর জি করের নির্যাতিতার সুবিচারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। এই আবহে সোমবার পানিহাটিতে নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন তৃণমূলের দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিক। সেখানে পানিহাটির বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে, সিআইসি তাপস দে, দলের দু’জন শহর সভাপতি সম্রাট চক্রবর্তী ও প্রবীর ভট্টাচার্য, কাউন্সিলার প্রদীপ বড়ুয়া, বিশ্বনাথ দে, সুব্রত রায়, মহিলা নেত্রী তন্দ্রা ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, সেখানে ওয়ার্ড ধরে ধরে পর্যালোচনা হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফলে কোন ওয়ার্ডে তৃণমূল কত ভোটে পিছিয়ে ছিল, কোন ওয়ার্ডে লিড ছিল সামান্য, কোথায় ভোট কাটাকাটির সুফল মিলেছিল—এসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। তুলনামূলক দুর্বল এলাকাগুলি চিহ্নিত করে বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের ওয়ার্ড ভিত্তিক বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়। কাউন্সিলারদের নিজের ওয়ার্ডের মধ্যে বুথ ধরে ধরে প্রতি বাড়িতে ৩-৪ বার করে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৫ বছরে বদলে যাওয়া পানিহাটির উন্নয়ন তুলে ধরার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের কৌশল, বিজেপি প্রার্থীর সম্বন্ধে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যাবে না। পরিবর্তে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা দিতে হবে প্রচারে। অভয়া-আবেগের পালটা হিসাবে দলের মহিলা ব্রিগেডকে আরও বেশি করে রাস্তায় নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ মিটিং ছিল। ভোটের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে পানিহাটি আসনটি আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেছেন। সেই মতো দলের নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)