• দমদমের ভোট ফ্যাক্টর সরকারি প্রকল্প, পুর প্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত উদ্যোগও, দুর্নীতির দিকে আঙুল বিরোধীদের
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মানুষের কাছে নিয়মিত পরিষেবা পৌঁছে দিয়ে দমদমের রাজনীতিতে অন্য মাত্রা যোগ করেছেন তৃণমূল কাউন্সিলাররা। রাজ্য সরকারের প্রকল্প তো আছেই পাশাপাশি কাউন্সিলাররাও নিজেদের উদ্যোগে কিছু কর্মসূচি নিয়েছেন। এই উদ্যোগ বিধানসভা ভোটে বাজিমাত করতে পারে বলে আশা তৃণমূলের। ফলে আত্মবিশ্বাসী তারা, ভালো ফলের আশায় মশগুল। তবে বিরোধী দলগুলির অন্য কথা। তাঁরা তৃণমূল কাউন্সিলারদের আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বলছে, ‘কাউন্সিলাররাই প্রমোটার হয়েছেন। বেআইনি বহুতলের বিপুল আয়ের কিঞ্চিৎ অংশ ভোট পেতে ছড়াচ্ছেন।’ ‘এই অভিযোগ ভিত্তিহীন,’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কাউন্সিলাররা। 

    স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বক্তব্য, লাল দুর্গকে অতীত করে জমিতে ঘাসফুলের শিকড় মাটির বহু গভীরে ছড়িয়ে দেওয়া গিয়েছে। দেড় দশক ধরে দমদম বিধানসভা কেন্দ্রে দলের বড়ো ভরসা দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ড। লোকসভা-বিধানসভা কিংবা পুরভোট, বিরোধীদের হোয়াইট ওয়াস করা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলা হয়েছে। প্রসঙ্গত দমদম বিধানসভার মধ্যে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৭টি ও দমদম পুরসভার ২২টি ওয়ার্ড আছে। দমদম পুর অঞ্চলে ভোটের ফলাফলে উত্থানপতন দেখা দেয়। কিন্তু দক্ষিণ দমদমের ছবি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের নিরিখে দমদম পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে তৃণমূল ছিল পিছিয়ে। কিন্তু দক্ষিণ দমদমে প্রায় সাত হাজার ভোটের লিড পেয়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে সে লিড বেড়ে ১৫ হাজারেরও বেশি হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ৩, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে পড়ে। তবে বাকি ওয়ার্ডগুলি থেকে ৮ হাজার ৯৭১ ভোটের লিড পায়। কর্মীদের দাবি, এবার ২০২১ সালের ১৫ হাজার লিড টপকে যাওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করছে দল।

    এই লিডের রসায়ন নিয়ে পুর নাগরিকদের একাংশের বক্তব্য, পুরসভার কাউন্সিলাররা একাধিক প্রকল্প চালান। মেলা-খেলা, পুজো ইত্যাদিতে সারাবছর মাতিয়ে রাখেন। তাঁরা পরিবারভিত্তিক পরিষেবা পৌঁছে দেন বছরভর। মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাড়ি মিষ্টি, পেন, ফুল, ক্লিপ বোর্ড পাঠিয়ে শুভেচ্ছাবার্তা দেন। বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। শিক্ষকদেরও উপহার, নতুন বছর ও বড়দিনে বাড়ি বাড়ি কেক, মোয়া ও মিষ্টির প্যাকেট পাঠানো ইত্যাদি করেন। ফ্রি টোটো সার্ভিস, ওয়াইফাই, বার্ধক্যভাতা ও ওষুধ কিনতে ওয়ার্ডভিত্তিক ভাতা প্রদান, জন্মদিন ও বিবাহবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানানো ইত্যাদি বহু কর্মকাণ্ড করে থাকেন। এরই ফল ফলার সম্ভাবনা বিধানসভা ভোটে।

    যদিও দমদমের সিপিএম প্রার্থী ময়ুখ বিশ্বাস বলেন, ‘দক্ষিণ দমদমে তালিবানি শাসন চলছে। চরম সন্ত্রাসের আবহ। দুর্নীতিতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষ ভোট দিলে সব হিসেব বদলে যাবে।’ বিজেপির জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘কাউন্সিলারদের পরিষেবা চালানোর অর্থের উৎস কি? মানুষ প্রোমোটারিরাজ ও সিন্ডিকেটরাজে অতিষ্ট। কর্মসংস্থান নেই। সন্ত্রাসে মানুষ ভীত। এবার মানুষ জবাব দেবে।’ শহর তৃণমূল সভাপতি(দমদম বিধানসভা) সুকান্ত সেনশর্মা বলেন, ‘মন্ত্রী ও বিধায়ক ব্রাত্য বসুর নেতৃত্বে বোমাগুলির দমদম এখন সংস্কৃতির পীঠস্থান। কাউন্সিলাররা সারাবছর নাগরিকদের পাশে থাকেন। এখানে প্রতি বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিলেও তৃণমূল প্রার্থী বিপুল ভোটে জিতবেন। হারের আতঙ্ক থেকেই বিরোধীরা ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)