• 'একটু ফাঁক পেলে পাহাড়ি ঝর্না-নদীর কাছে যেত রাহুল', সুপারহিট সিনেমার শুটিংয়ের স্মৃতি
    এই সময় | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • সব্যসাচী ঘোষ, মালবাজার

    'চিরদিনই তুমি যে আমার' যে মনে-রাখার-মতো ছবির তালিকায় জায়গা করে নেবে, তা বোধ হয় সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ নায়ক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ভাবেননি। ২০০৮ সালের এই সিনেমার বেশিরভাগ অংশের শুটিং হয়েছিল শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন পাহাড় এলাকায়। শুটিংয়ের ফাঁকে তিনি চষে বেরিয়েছেন হংকং মার্কেট, বিধান মার্কেটের মোমোর দোকান আর হিলকার্ট রোডের এ পাশ-ও পাশ। সে সবের মতো রাহুলও পাকাপাকি স্মৃতিতে জায়গা করে নিলেন। জনপ্রিয় সেই সিনেমার লাইন প্রোডাকশনের দায়িত্বে ছিলেন বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায় ও চৈতালি বন্দ্যোপাধ্যায়।

    নায়ক-নায়িকা নতুন হলেও দু'জনকে সামলাতে তাঁদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়নি। বাবলু-চৈতালির কাছে দু'দশক আগের সে সব কথা এখনও টাটকা। তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস থেকে বেরিয়ে হিলকার্ট রোডের উল্টো দিকে সে সময়ের একটি ভালো হোটেলে রাহুলদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। ১৮ দিন ধরে চলেছিল শুটিং।

    রাহুল যখন দিঘার মর্গে নিথর শুয়ে, তখনও বাবলু ও চৈতালির স্মৃতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একটা মিশুকে, হাসিখুশি ছেলে। যিনি ইউনিটের সবার সঙ্গে বসে সকাল ও দুপুরের খাওয়াদাওয়া সারতেন। সোমবার শিলিগুড়ির বাড়িতে বসে বাবলু বলেন, 'অন্যান্য লোকেশনের পাশাপাশি হিলকার্ট রোডেও শুটিং হয়েছিল। খুব ভোরে যখন রাস্তায় গাড়ি কম চলাচল করত, তখন সেবক মোড়ে আমরা কাজ করতাম। সুকনা জঙ্গল, শিলিগুড়ি জংশনের লাইনেও কাজ করেছিলাম। প্রতিটা দৃশ্যে ক্যামেরার সামনে সাবলীল লাগত রাহুলকে।' তাঁর মনে আছে, রাহুল অভিনীত 'কৃষ্ণ' চরিত্রটির একটি ছোট সাইকেল ও স্কুটার মেরামতির গ্যারেজ ছিল। শিলিগুড়ির যানজট এড়াতে কার্শিয়াংয়ের রোহিণী এলাকায় রাস্তার ধারে কৃত্রিম গ্যারাজ বানানো হয়েছিল।

    সেটা ছিল পাহাড়ের নেতা বিমল গুরুংয়ের উত্থানের পর্ব। অস্থিরতার জন্য বড় শুটিং ইউনিট পাহাড়ে আসতে চাইত না। চৈতালি বলেন, 'সবাই ভয়ে থাকতেন, কবে আচমকা বনধ ডাকা হবে। কাজ না বন্ধ হয়ে যায়। আমরা পাহাড়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে শুটিংয়ের অনুমতি নিয়েছিলাম। রাহুল তখন উঠতি অভিনেতা। ও আমাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে চাইত, পাহাড়ের সঙ্গে সমতলের বিবাদের কারণ কী। হিলকার্ট রোডের নাম কেন এমন হলো, এমন কত প্রশ্ন করেছে, আজ একটু একটু মনে পড়ছে।'

    প্রেম গুপ্তা এই ছবির জন্য স্থানীয় অভিনেতা জোগাড়ের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর কথায়, 'রাহুলের ব্যবহার ছিল একেবারে পাশের বাড়ির ছেলের মতো। নায়ক বলে কোনও গাম্ভীর্য ছিল না।' বাবলু এর পরেও একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন রাহুলের সঙ্গে। বলেন, 'তত দিনে ওর অনেক নামডাক হয়েছে। কালিম্পং ও লাভায় ফেলুদার শুটিং হয়েছে। এই তো গত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রেড ব্যাঙ্ক চা বাগানে শুটিং করে গেল। আমাকে দেখলেই জড়িয়ে ধরত। আমি ওর প্রথম ছবিতে সঙ্গে ছিলাম, তাই আমাকে আজীবন ভুলতে পারবে না, এটা রাহুল বলত।'

    এই আলিঙ্গনের আবেশ কাটার মতো বিধছে বাবলুকে। চৈতালি গল্প শোনাতে থাকেন- 'একটু ফাঁকা সময় পেলেই রাহুল পাহাড়ি ঝর্না বা নদীর দিকে চলে যেত। প্রকৃতির সান্নিধ্য ভালবাসতো।' ঝর্না, নদী ঘুরে সমুদ্রের কোলে ঠাঁই নিয়েছেন রাহুল, আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন না, এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না বাবলু-চৈতালির।

  • Link to this news (এই সময়)