• ভোট বন্ধের হুঁশিয়ারি 'ডিলিটেড' ভোটারদের, বিক্ষোভ
    এই সময় | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, আরামবাগ: কমিশনের প্রকাশিত 'সাপ্লিমেন্টারি' ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে সোমবার আরামবাগের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষজন। এ দিন সকালে খানাকুলে বলপাই এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় গ্রামবাসীরা। দুপুর পর্যন্ত টানা বিক্ষোভেক জেরে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। একই ইস্যুতে আরামবাগের হরিণখোলায় সকাল থেকে বিএলও-এর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান কিছু মানুষ। আরামবাগের মায়াপুরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানুষদের ক্ষোভের মুখে পড়েন আরামবাগের সিপিএম প্রার্থী বীথিকা পণ্ডিত।

    স্থানীয় সূত্রের খবর, আরামবাগের মায়াপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬৬ নম্বর বুথে ২৬১ জন 'বিচারাধীন' ভোটারের মধ্যে ১০৫ জনের নাম বাতিলের (ডিলিটেড) তালিকায় ফেলা হয়েছে। তাঁরা এ দিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভোটাধিকার ফিরিয়ে না দিলে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, কোথাও ৬০ জন ভোটারের মধ্যে ২৯ জনের নাম ডিলিটেড তালিকায় ফেলা হয়েছে। কোনও পরিবারে বাবা-মায়ের নাম থাকলেও, ছেলের নাম ডিলিটেড হয়ে গিয়েছে। কারও ছেলের নাম রয়েছে, অথচ মা-বাবার নাম রয়েছে ডিলিটেড তালিকায়। আবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একজনের নাম থাকলেও, অন্য জনের নাম নেই। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন যে ১১টি তথ্যের মধ্যে যে কোনও একটি থাকলেই হবে বলে জানিয়েছিল, তার অধিকাংশ নথি থাকলেও, নাম বাদ গিয়েছে। এ দিন আরামবাগের সিপিএম প্রার্থীর সামনে তাঁরা এ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। সিপিএম প্রার্থীকে ঘেরাও করে গ্রামবাসীরা বলেন, 'ভোটার তালিকায় নামই যখন নেই, তখন ভোট দেবো কী করে?'

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিলের জন্য এ দিন সকালে আরামবাগের হরিণখোলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলামিচক গ্রামে এক বিএলও-এর বাড়ির সামনে বিক্ষোভদেখান কিছু মানুষ। বিক্ষোভকারীরা জানান, হরিণখোলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দর্জিপোতা গ্রামের ৬০ নম্বর বুথে প্রায় ১২০০ ভোটারের মধ্যে ১০৬ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরা বিএলও-র কাছে জানতে চান, ঠিক কী কারণে এত সংখ্যক ভোটারের নাম বাতিল করা হয়েছে? তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন, ভোটার তালিকায় যদি তাঁদের নাম না ওঠে, তা হলে আসন্ন নির্বাচনে ভোট বাতিলের ডাক দেবেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।

    বিএলও ভারতী ঘোষ বলেন, 'শুধু আমার বুথেই নয়, বিভিন্ন বুথে একই ভাবে নাম বাদ পড়েছে। আমি সমস্ত নথি বিডিও অফিসে জমা দিয়েছি। তার পরেও যদি নাম বাদ যায়, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি চাই, প্রত্যেক যোগ্য ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হোক।'

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকেও নাম বাদ যাওয়ায় খানাকুল ২ নম্বর ব্লকের বলপাই ট্রান্সফর্মা মোড়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। এই এলাকার ২৫৬ নম্বর বুথে ১৩৬ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ চক্রান্ত করে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। আরামবাগের মায়াপুরের ১৬৬ নম্বর বুথের বাসিন্দা শেখ আসরাফুল আলি, সানোয়ার আলি মল্লিক, মুন্সি আলি-সহ একাধিক জনের নাম বাতিল চূড়ান্ত তালিকায়। স্থানীয় বিএলও সাইফুল মল্লিক বলেন, 'আমি বুঝতে পারছি না এ রকম কী ভাবে হলো। আমি যথাযথ কাজ করেছি। এঁদের ভবিষ্যৎ কী, জানি না।'

    এই অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা শেখ রফিক ইসলাম বলেন, 'আমাদের একটাই প্রশ্ন, এঁদের ভবিষ্যৎ কী? বিজেপির চক্রান্তে নির্বাচন কমিশন এই ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে চাইছে। পারবে না। চ্যালেঞ্জ দিলাম।' আবার সিপিএমের হুগলি জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'কী ধরনের কাজ হচ্ছে, সেটা সবাই ভাবুন। আমি বলব, যাঁদের নাম বাতিল হলো, তাঁরা সবাই মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে ধর্নায় বসুন।'

    বিজেপির প্রার্থী হেমন্ত বাগ অবশ্য বলেন, 'সার'-এর কাজ বিজেপি করেনি। করেছে নির্বাচন কমিশন। নথিপত্রে নিশ্চয়ই কিছু ঘাটতি ছিল।' সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় সোমবার হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে সিঙ্গুর ব্লক অফিসে বিক্ষোভ দেখান কিছু মানুষ। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, সিঙ্গুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১১০ নম্বর বুথে মোট ৫৬৮ জন ভোটারের মধ্যে ৬০ জনের নাম বাদ চলে গিয়েছে। তাঁরা সকলেই সংখ্যালঘু পরিবারের।

  • Link to this news (এই সময়)