IAS-IPS বদলিতে স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা। মামলা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আইনজীবী অর্ককুমার নাগের জনস্বার্থ মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট। ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে ৪৬ জন অফিসার বদল করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবং এই আধিকারিকদের পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। সেই মামলাই মঙ্গলবার খারিজ করল প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।
এই মামলায় মামলাকারীর দাবির সাথে সহমত জানায় রাজ্য। পাশাপাশি বিডিও, IC এবং ওসি বদলি নিয়ে দায়ের করা মামলাও খারিজ করল আদালত।
আরও একটি মামলা হয়েছিল। রাজ্যের ২৬৭ জন প্রশাসনিক আধিকারিককে একই দিনে বদলি নিয়ে। OC-IC-BDO বদলের মামলা সেটি। তা-ও খারিজ হয়ে যায় এ দিন।
আমলা বদলি মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী একজন কর্মরত আইনজীবী। শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের বদলি হওয়ার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত অভিযোগ থাকার কথা নয়, যদি না সেই বদলির ফলে জনস্বার্থে কোনও ক্ষতি হয়। যদি অফিসারদের অল্প সময়ের জন্য (অর্থাৎ নির্বাচন পর্যন্ত) বদলি করা হয়, তা হলে বলা যায় না যে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে বা কোনও অচলাবস্থা বা নিষ্ক্রিয় অবস্থা তৈরি হয়েছে। এই মামলায় আবেদনকারী কোথাও দেখাতে পারেননি যে, কোনও আইনভঙ্গ হয়েছে বা নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার অভাব ছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র অনেক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে বলে তা ইচ্ছাকৃত, স্বেচ্ছাচারী বা বিদ্বেষমূলক বলা যায় না। বিশেষত যখন সারা দেশে একই ধরনের বদলি হয়েছে। শুধুমাত্র বেআইনি বা ক্ষমতার বাইরে কিছু হলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে। অন্য কোনও বিষয় হস্তক্ষেপের কারণ নেই। বদলি চাকরির স্বাভাবিক অংশ। যদি কোনও কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তিনি নিজে আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিছু রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হলেও, তাঁদের মামলায় পক্ষ করা হয়নি এবং কোনও প্রমাণও দেওয়া হয়নি। তাই বিদ্বেষের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
IAS-IPS-দের মামলার এই রায় দেখার পরে মামলাকারীর আইনজীবী OC, BDOদের বদলি মামলার প্রসঙ্গ তোলেন। কারণ সেই মামলাও এ দিন শুনানির কথা ছিল। তখন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ওই মামলার আবেদনও খারিজ করে দেয়।