• ‘মেট্রো ওম্যান’ অশ্বিনী ভিড়ের হাতে যেতে চলেছে BMC-এর রাশ, চেনেন তাঁকে?
    এই সময় | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • দেশের সবথেকে বড় ও ধনী পুরসভাতেও মহিলা ক্ষমতায়নের ছোঁয়া। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ( Brihanmumbai Municipal Corporation) কমিশনার হিসেবে প্রথমবার দায়িত্ব নিতে চলেছেন কোনও মহিলা। সূত্রের খবর, ‘মেট্রো ওম্যান’ হিসেবে বিখ্যাত অশ্বিনী ভিড়ে (Ashwini Bhide)-এর নাম মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার পদের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে খবর। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সুনজরে থাকা ১৯৯৫ ব্যাচের আইএএস অফিসার Ashwini Bhide-এর হাতেই দেশের বৃহত্তম পুরসভার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে খবর। অশ্বিনী ভিড়ে বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর অতিরিক্ত মুখ্য সচিব হিসেবে কর্মরত।

    BMC-এর বর্তমান কমিশনার ভূষণ গাগরানি ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার অবসর নিচ্ছেন। তার পরেই অশ্বিনী ভিড়ের নাম ঘোষণা করা হবে বলে খবর। মহারাষ্ট্র সরকারের শীর্ষস্তরে এই নিয়োগ প্রায় চূড়ান্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। অশ্বিনী দায়িত্ব নিলে BMC-র ইতিহাসে তিনিই হবেন প্রথম মহিলা কমিশনার।

    ১৯৯৫ ব্যাচের আইএএস অফিসার Ashwini Bhide। প্রশাসনিক মহলে দক্ষ আধিকারিক হিসেবে পরিচিত। কোলহাপুর থেকে তাঁর প্রশাসনিক কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সহকারী জেলা কালেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এই মহিলা আধিকারিক। তার আগে মুম্বই মেট্রো রেল কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। মুম্বইয়ের মেট্রো লাইন–৩ বা অ্যাকোয়া লাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন অশ্বিনী। তার জন্য তাঁকে ‘মেট্রো ওম্যান’ বলেও ডাকা হয়।

    ২৭ বছরের প্রশাসনিক কর্মজীবনে অশ্বিনী ভিড়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, রাজ্যপালের যুগ্ম সচিব, মুম্বই মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অতিরিক্ত কমিশনার এবং স্কুল শিক্ষা ও ক্রীড়া বিভাগের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে অশ্বিনী মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের দপ্তরে অতিরিক্ত প্রধান সচিব হিসেবে কর্মরত এবং রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

    অশ্বিনী ভিড়ের নিয়োগ ঘিরে আরব সাগরের পাড়ে জোর রাজনৈতিক শোরগোল। এই নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী Devendra Fadnavis ব্যক্তিগতভাবে ভিড়ের নামের পক্ষে সমর্থন জানান বলে সূত্রের খবর, এবং উপমুখ্যমন্ত্রী Eknath Shinde-র সঙ্গে আলোচনার পরই তাঁর নিয়োগের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়। যদিও শিন্দে শিবিরের তরফে অন্য এক আমলা অসীম গুপ্তার নামও বিবেচনায় ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্তকে মহারাষ্ট্র সরকারের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    অশ্বিনী ভিড়ের কর্মজীবনও নানা গুরুত্বপূর্ণ এবং কখনও কখনও বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ভরপুর। মুম্বই মেট্রো প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আরে (Aarey) এলাকায় কারশেড নির্মাণকে ঘিরে পরিবেশ বনাম উন্নয়নের বিতর্কে তিনি সরাসরি প্রশাসনে নাক গলান। যা তৎকালীন Uddhav Thackeray সরকারের সঙ্গে এই আমলার মতবিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চাপ সামলে কাজ করার সক্ষমতাও প্রমাণ করেছে। ফলে তাঁকে BMC-র মতো সংবেদনশীল এবং ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থার দায়িত্ব দেওয়া যুক্তিযুক্ত বলছে ওয়াকিবহল মহল।

    তবে অশ্বিনীর সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক চাপের মধ্যে মুম্বইয়ের বায়ুদূষণ, জলনিকাশির সমস্যা, রাস্তা সংস্কার, বস্তি পুনর্বাসন থেকে শুরু করে কোস্টাল রোড, মেট্রো সম্প্রসারণের মতো বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন—সবকিছুই তাঁকে সামলাতে হবে। সব মিলিয়ে, অশ্বিনী ভিড়ের সম্ভাব্য এই নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক বদল নয়, বরং মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ক্ষমতার সূক্ষ্ম সমীকরণ এবং মুম্বইয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশও অনেকটাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, BMC শুধু একটি পুরসভা নয়, এটি ভারতের অন্যতম ধনী মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, যার বাজেট হাজার হাজার কোটি টাকা। সেই কারণে কমিশনার পদটি প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পদে কাকে বসানো হচ্ছে তা নিয়ে জোট সরকারের বিভিন্ন অংশের আগ্রহ ও টানাপোড়েন স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)