রাজস্থানের জয়পুরে ফটোশুটের জন্য গোলাপি রঙে রাঙানো হাতি ‘চঞ্চল’ আর বেঁচে নেই। ওই মাদি হাতির বয়স হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর। গত বছর এক বিদেশি ফটোগ্রাফার জ়ুলিয়া বুরুলেভা বিশেষ প্রজেক্টের জন্য চঞ্চলকে উজ্জ্বল গোলাপি রঙে সাজিয়েছিলেন। সেই ছবি সম্প্রতি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ সৃষ্টি হয় নেটিজ়েনদের মধ্যে। এর পরেই সামনে আসে চঞ্চলের মৃত্যুর খবর। যার জেরে বিতর্ক আরও দানা বেঁধেছে। তবে বন দপ্তর ও হাতি মালিকের দাবি, বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে তার।
গত বছরের শেষের দিকে জয়পুরের একটি পরিত্যক্ত গণেশ মন্দিরের সামনে বিতর্কিত এই ফটোশুট করা হয়েছিল। ফটোগ্রাফার জ়ুলিয়া জয়পুরের ঐতিহ্যবাহী গোলাপি আভার সঙ্গে মিল রেখে চঞ্চলকে ওই রঙে সাজিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, রাজস্থানি সংস্কৃতিতে হাতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাই নিজের শিল্পকলায় তিনি চঞ্চলকে ব্যবহার করেছিলেন। হাতির মালিকের দাবি, ফটোশুটের জন্য কেবলমাত্র ভেষজ আবির বা গুলাল ব্যবহার করা হয়েছিল। মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে সেই রং ধুয়েও ফেলা হয়েছিল।
চঞ্চলের মৃত্যুর সঙ্গে ফটোশুটের কোনও সরাসরি যোগসূত্র মেলেনি বলেই জানিয়েছেন হাতি গ্রামের (হাতি গাঁও) কমিটির সভাপতি বাল্লু খান। তাঁর মতে, ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা হাতির জন্য যথেষ্ট বেশি এবং শরীরিক দুর্বলতার কারণেই সে মারা গিয়েছে। তবুও নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় থামছে না। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি বয়স্ক পশুকে নিছক বিনোদন বা শিল্পের খাতিরে এ ভাবে ব্যবহার করা কতটা যুক্তিযুক্ত। অনেকে আবার এই ঘটনায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন।
বর্তমানে রাজস্থান বন দপ্তর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ফটোশুটের জন্য যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং কোনও নিয়ম ভাঙা হয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে। যদি কোনও অবহেলা বা আইনি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।