• আদি–নব্য দ্বন্দ্বের জের? তড়িঘড়ি প্রার্থী বদল বিজেপির
    আজকাল | ৩১ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: তীব্র আদি–নব্য দ্বন্দ্বের জের? জল্পনা সত্যি করে ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করল বিজেপি। গতবারের জয়ী বিধায়ক কৌশিক রায়ের বদলে এবার টিকিট পেলেন ডালিম রায়। এলাকায় ‘‌অনুপস্থিত’‌ থাকার অভিযোগে কৌশিকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন কর্মীরা। এমনকি জেলা সভাপতিকে তালাবন্দি করার ঘটনাও ঘটে। ফলে প্রচার শুরু করে দিলেও শেষরক্ষা হল না কৌশিকের। ক্ষোভ সামাল দিতে শেষ মুহূর্তে ডালিম রায়ের ওপরই ভরসা রাখল গেরুয়া শিবির। গত পাঁচ বছর এলাকায় না থাকার যে অভিযোগ কৌশিকের বিরুদ্ধে উঠেছিল, এই প্রার্থী বদল তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

     বিজেপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই ময়নাগুড়ি বিধানসভার জন্য উঠে আসে গতবারের বিজেপি বিধায়ক কৌশিক রায়ের নাম। নাম ঘোষণা হতেই ময়নাগুড়ির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, পরবর্তী সময়ে বিজেপির জেলা সভাপতিকে তালা বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। যার জন্য দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেও কর্মীদের সেভাবে কৌশিকের প্রচারে দেখা যায়নি। ঘোষণার তিনদিন পর উত্তরবঙ্গের অন্যতম শৈব তীর্থ জল্পেশ ও জটিলেশ্বর মন্দিরে পূজা দিয়ে ময়নাগুড়ির গ্রামীণ এলাকাগুলিতে কৌশিক রায়কে নির্বাচনী জনসংযোগ করতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে আবারও কৌশিক রায়ের প্রচার বন্ধ থাকে। এরপর গত ২৯ শে মার্চ ময়নাগুড়ির দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে কৌশিক রায় গত পাঁচ বছরের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেন। 

    কিন্তু শেষরক্ষা হল না। পুরোপুরি মাঠে নামার প্রস্তুতির মাঝেই বিজেপির চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকায় নাম উঠে আসে ময়নাগুড়ির বাসিন্দা ডালিম রায়ের। 

    মঙ্গলবার ময়নাগুড়ি বিজেপি মহলে প্রার্থী পরিবর্তন হতেই যেন উৎসবের আমেজ। দলীয় সূত্রে খবর মঙ্গলবার থেকেই কোমর বেঁধে কর্মীরা মাঠে নামবেন বিজেপির নতুন এই প্রার্থীকে নিয়ে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কার্যালয়ে প্রায় ১০০টি ঢাক বাজিয়ে উল্লাস করে নতুন প্রার্থী ডালিম রায়কে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর আজকাল ডিজিটাল এর প্রতিনিধিকে ডালিম রায় জানায়, তিনি সবেমাত্র জানতে পারলেন তাঁর নাম এবারের বিধানসভায় লড়াইয়ের জন্য বিজেপি ঘোষণা করেছে। ফলে তিনি ভীষণ আপ্লুত এবং জয়ের বিষয়ে পুরোপুরি আশাবাদী। তাঁর কথায়, ময়নাগুড়ি বিধানসভার আসনটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি ছিল এবং তাই থাকবে। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে পরবর্তী কর্মসূচি দলীয় নির্দেশিকা পাওয়ার পরেই জানাবেন বলে জানিয়েছেন ডালিমবাবু। 

    অন্যদিকে গোটা ঘটনা নিয়ে একাধিকবার প্রাক্তন বিধায়ক কৌশিক রায়কে ফোন করা হলে তিনি ফোন তোলেননি। সব মিলিয়ে এখন ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রটি প্রত্যেকের নজরে।
  • Link to this news (আজকাল)