ঢাকি সমেত বিসর্জন বোধহয় একেই বলে। বুধবার মনোনয়ন জমা দেবেন বলে ২১টি ঢাকের বায়না দিয়েছিলেন। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাজাতে বাজাতে যাবেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে বিজেপির চতুর্থ তালিকা (BJP Candidate List) প্রকাশ হতেই মাথায় হাত। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি (Jalpaiguri, Maynaguri) কেন্দ্রে কৌশিক রায়ের (Koushik Roy) নাম কেটে প্রার্থী করা হয়েছে ডালিম রায়কে (Dalim Roy)। এখন ঢাকের কি হবে! বায়নার পুরো টাকাই জলে।
প্রথম প্রার্থী তালিকায় ময়নাগুড়ি কেন্দ্র থেকে কৌশিক রায়কে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি। কোমর বেঁধে প্রচারও শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। মিটিং, মিছিল, পথসভা করছিলেন। কিন্তু তাঁকে প্রার্থী করায় ময়নাগুড়ির বিজেপি কর্মীদের একাংশ খুশি ছিলেন না মোটেই। কৌশিককে তাঁরা মানতে নারাজ। প্রথম তালিকা প্রকাশের পরেই রীতিমতো বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে জেলার নেতাদের ময়নাগুড়ির বিজেপি কার্যালয়ে আটকে রেখে প্রার্থী বদলের দাবি তোলেন তাঁরা।
এ দিন দলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর দাবিকেই মান্যতা দিয়ে প্রার্থী বদল করেছে বিজেপি। কৌশিকের নাম বাদ দিয়ে ময়নাগুড়ি কেন্দ্র থেকে ডালিমকে প্রার্থী ঘোষণা করতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। কার্যালয়ের সামনেই গেরুয়া আবির খেলায় মেতে ওঠেন সবাই। ডালিম অবশ্য প্রার্থী হয়েই গোষ্ঠী কোন্দল মেটানোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘আমি দলের কর্মী। দল যে কাজ দেবে করব। কৌশিককে সঙ্গে নিয়েই প্রচার নামব।’
আচমকা প্রার্থী বদলের ঘটনায় অবাক কৌশিক অনুগামীরা। যদিও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি কেউই। কৌশিক কলকাতায় গিয়েছেন। তিনি ফিরলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রার্থী বদলের পরে কৌশিকের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তবে তাঁর স্ত্রী সোনি রায় বলেন, ‘কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল, বুঝতেই পারলাম না।’
ভোটের মুখে এমন প্রার্থী বদলের ঘটনায় আদতে তৃণমূলেরই লাভ হবে বলে দাবি করলেন ময়নাগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সোমেশ স্যান্যাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছুই যায় আসে না। তবে বিজেপি আড়াআড়া ভাবে টুকরো হয়ে গেল। এটাই তৃণমূলের লাভ।’ সঙ্গে সোমেশ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যাঁরা নিজেদের প্রার্থীর উপরেই ভরসা করতে পারে না, তাঁদের মানুষ কী ভাবে ভরসা করবে?’