প্রচারে আধুনিকতা আনছে সিপিএমও! সমাজমাধ্যমে তৃণমূল এবং বিজেপির একচেটিয়া দাপটের সঙ্গে পাল্লা দিতে ভোটের প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র প্রযুক্তিকেই হাতিয়ার করেছে তারা। শুধু তা-ই নয়, কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূল-বিজেপিকে পিছনেও ফেলে দিচ্ছে বামপ্রার্থীদের প্রচারবাহিনী। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী জীবানন্দ সিংহের হয়ে সমাজমাধ্যমে প্রচারে ইতিমধ্যেই ১০ জনের একটি টিম তৈরি করেছে সিপিএম। ঘটনাচক্রে, সদস্যসংখ্যার নিরিখে অন্য দলগুলির চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে বামেদের এই বাহিনী। এগিয়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারেও।
সিপিএম সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমে প্রচারের দায়িত্ব পাওয়া এই দলটি মূলত এআই প্রযুক্তির ব্যবহারেই জোর দিচ্ছে। দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে নানা ভিডিও-পোস্টার তৈরি করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করছে তারা। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫-২০টি এআই ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। আরও কিছু ছবি-ভিডিও তৈরির কাজ চলছে। দলের স্থানীয় এক নেতা বলেন, ‘দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে অনেক আগে থেকেই জোরকদমে প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। গ্রাম-শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বাড়ি-বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। বাজার থেকে চায়ের দোকানের আড্ডা, সর্বত্রই জনসংযোগ চলছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়াকে বাদ দিলে চলবে না।’ সিপিএমের শহর এরিয়া কমিটির সদস্য ও বাম প্রার্থীর সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ শান্তনু অধিকারী বলেন, "১০ জনের দলীয় কর্মীদের একটি দল প্রার্থীর প্রচারে 'এআই' প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আমরা পেশাদার কাউকে ভাড়া করিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে রেসপন্স বেশি।’
রায়গঞ্জে প্রচারে তারাই একমাত্র 'এআই' প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে সিপিএম। তৃণমূলও মেনে নিয়েছে, তাদের প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণীর হয়ে প্রচারে তারা এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে না। কৃষ্ণের প্রচারে দলের নির্দিষ্ট কিছু লোক ছাড়াও প্রার্থীর নিজের একটি দলও কাজ করছে। সেই দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অনুপম দাস বলেন, ‘আমরা পাঁচ জন রয়েছি, যাঁরা প্রার্থীর সোশ্যাল মিডিয়া অপারেট করি। তবে আমরা প্রচারে এখনই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছি না।’ বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া কো-কনভেনার বিশ্বজিৎ ঘোষও বলেন, "রায়গঞ্জে ২ জন দলীয় কর্মী রয়েছেন, যাঁরা এই গোটা বিষয়টা দেখছেন। এআই প্রযুক্তি আমরা খুব একটা ব্যবহার করছি না। রাজ্য নেতৃত্ব যা পাঠাচ্ছেন, সেগুলোই শেয়ার করি। রায়গঞ্জের ক্ষেত্রে আমরা বেশি পোস্টার-ই সাঁটাচ্ছি।’
তবে কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের স্টেট কোঅর্ডিনেটর তন্ময় দত্ত বলেন, ‘আমরা কিছু ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছি। তবে সংখ্যাটা খুব কম। আমাদের দলীয় কর্মীদের মধ্যে ৬-৭ জনের একটি দল বিষয়টি দেখছে।